বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল এবং নন্দিত চরিত্র হিসেবে চিহ্নিত বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুধু দেশের রাজনীতিতেই নয়, সমাজ ও সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট রংপুরে জন্মগ্রহণ করা বেগম খালেদা জিয়া উচ্চশিক্ষিত পরিবারের একজন গুণী কন্যা ছিলেন। তিনি তৎকালীন সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ও দ্রুতই নিজস্ব নেতৃত্বের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির উত্থান শুরু হয় ১৯৭৫ সালের শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর। বিপর্যস্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি দলের দায়িত্ব গ্রহণ করে বিএনপিকে পুনর্গঠন করেন এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলকে শক্তিশালী করে তোলেন। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। তার শাসনামলে দেশ অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নানা উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও বিতর্কও ছিল লক্ষ্যণীয়।
বেগম খালেদা জিয়ার জীবন রাজনীতির এক বিশেষ অধ্যায়। তিনি নারী রাজনীতিবিদ হিসেবে বাংলাদেশের সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের পথও সুগম করেছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও তিনি নানা সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। কারাবন্দি হওয়া, রাজনৈতিক হুমকি এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা—এসবই তাকে কখনো ভেঙে দিতে পারেনি। তার দৃঢ় নেতৃত্ব এবং অটল মনোভাবই তাকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অম্লান চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সমালোচকরা তাকে ক্ষমতার খাতিরে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সমালোচনা করলেও, সমর্থকরা তাকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে মানেন। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কীর্তি শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন আমাদের শেখায় যে নেতৃত্বের সঙ্গে সাহস, দৃঢ়তা এবং প্রজ্ঞা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাঙালি রাজনীতির ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার নাম অম্লান থাকবে। তাঁর জীবন ও কর্ম কেবল ইতিহাসের পাতায় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও শিক্ষণীয় এক দৃষ্টান্ত। রাজনীতি, নারী নেতৃত্ব, সংকট মোকাবিলা—এসবের মেলবন্ধনে তিনি চিরস্মরণীয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৮:৩৪ এএম