ফরিদপুর-১ আসনে (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) ১১ বারের মত সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর (৮০)। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১০টি নির্বাচনে অংশ নেওয়া শাহ জাফর চারবার বিজয়ী হয়েছেন এবং ছয়বার পরাজিত হয়েছেন। এবার তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
শাহ জাফরের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ১৯৭৯ সালে, যখন তিনি আওয়ামী লীগ (মালেক) দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে বাকশাল, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, এবং সর্বশেষ ২০০৫ সালের উপ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তবে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এভাবে ছয়টি পার্টি ও জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শাহ জাফরের বারবার দল পরিবর্তন রাজনৈতিক সমালোচনার মূল বিষয়।
শাহ জাফর ১৯৪৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। এই মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির পটভূমি তাকে বরাবরই নির্বাচনী মাঠে সমর্থন দিয়েছে, তবে বর্তমান বয়স এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার ক্ষমতার উপর প্রশ্ন তোলে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “শাহ জাফরের বয়স, বারবার দল পরিবর্তন ও জনপ্রিয়তার অবনতি তাকে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে বাধা দিয়েছে। মানুষের কাছে নীতি ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ, যা তার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। কর্মী বাহিনী ধরে রাখতে হলে নেতাকে ধারাবাহিক ও আদর্শবান হতে হবে।”
অন্যদিকে, জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির নিয়ামুল হাসান বলেন, “শাহ জাফর একজন পুরনো রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে এবার নির্বাচনে তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ সম্ভব নয়। আমরা তার দোয়া ও সমর্থন চাই।”
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শাহ জাফর বলেন, “আমি বারবার দল বদল করেছি, তবে এতে জনগণের কোনো ক্ষতি হয়নি। কেউ বলতে পারবে না যে আমি কারও ক্ষতি করেছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো পক্ষ আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। আমি জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করবো।”
এই আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র এবং আটজন বিভিন্ন দল ও জোটের প্রার্থী। দলের প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ খালিদ বিন নাসের (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মো সারাফাত হোসাইন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মো. সুলতান আহমেদ (জাতীয় পার্টি), মৃন্ময় কান্তি দাস (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি), হাসিবুর রহমান (জাতীয় নাগরিক পার্টি), শামসুদ্দিন মিয়া (বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী)।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, শেখ আব্দুর রহমান, মো আবুল বাশার খান, মো. গোলাম কবির মিয়া, মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমদ ও লায়লা আরজুমান বানু।
শাহ জাফরের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, বারবার দল পরিবর্তন, বয়সের সীমা এবং জনপ্রিয়তার অবনতি এই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা আগামী নির্বাচনে নজরদারির বিষয় হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা থাকলেও নতুন প্রজন্মের প্রার্থী ও স্থায়ী নীতি-আদর্শের অভাব তাকে নির্বাচনী শক্তিতে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে।

পান্না বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১:৫৩ পিএম