ফরিদপুরে হঠাৎ করেই ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বেলা বাড়লেও কুয়াশার ঘনত্ব কমেনি, ফলে সড়ক, নৌপথ ও রেলপথে চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা–দৌলদিয়া–খুলনা মহাসড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল রয়েছে অত্যন্ত ধীরগতির।
সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দৃশ্যমানতা নেমে আসে ২০ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে। অনেক স্থানে যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এতে করে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কোথাও কোথাও যানজটেরও সৃষ্টি হয়। তবে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুরের সদর, বোয়ালমারী, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, সালথা, মধুখালী ও সদরপুর উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোতে কুয়াশার প্রভাব ছিল বেশি। গ্রামাঞ্চলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারেনি। কিছু এলাকায় অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্কুলে পাঠাননি।
কুয়াশার কারণে নদীপথেও প্রভাব পড়ে। ফরিদপুরের পদ্মা ও মধুমতী নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে ছোট নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, কুয়াশা কেটে যাওয়ার আগে যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শীতকালীন মৌসুমে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে হালকা থেকে ঘন কুয়াশা স্বাভাবিক ঘটনা। ফরিদপুরে রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসের গতি কম থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন ভোর ও সকালে এমন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠলে কুয়াশা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুয়াশার প্রভাবে কৃষিক্ষেত্রেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, শীতকালীন ফসল যেমন বোরো ধান, গম ও শাকসবজির জন্য হালকা কুয়াশা উপকারী হলেও দীর্ঘ সময় ঘন কুয়াশা থাকলে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এজন্য কৃষকদের নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসকরা কুয়াশা ও শীতজনিত কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাক ব্যবহার এবং সকালবেলা অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে হঠাৎ ঘন কুয়াশা ফরিদপুরের জনজীবনে সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

মাহমুদুল হাসান আরিফ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০:০৬ এএম