ফরিদপুরে কমছে খেজুরগাছ, দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে রস

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১১:৩৭ এএম

ফরিদপুর জেলার গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত খেজুর চাষে সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বিগত কয়েক বছরে খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলস্বরূপ, খেজুরের রসও এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সদর, নগরকান্দা, সালথা ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার অনেক গ্রামে খেজুর চাষ কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় চাষিরা বলছেন, আগে প্রতি গাছে প্রচুর রস পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে খেজুরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় রসের পরিমাণও অনেক কমে গেছে। “আগে খেজুরের রস বিক্রি করে আমরা ভালো আয় করতাম। এখন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় রসও খুবই কম,” বলেন সালথা উপজেলার বাসিন্দা কৃষক আরশাদ আলী।

তিনি আরও জানান, নতুন গাছ লাগানো হলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও রোগবালাই এর জন্য দ্রুত ফলন পাওয়া যাচ্ছেনা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল হক বলেন, “আমার খেজুরবাগান থেকে আগে প্রচুর রস পাওয়া যেত। কিন্তু এখন গাছের সংখ্যা কমে গেছে, তাই রসও কম হচ্ছে। প্রতি বছরই উৎপাদন কমতে থাকে।”

নগরকান্দা উপজেলার খেজুর চাষি তমিজ উদ্দিন বলেন, “খেজুরগাছের বয়সও একটি বড় বিষয়। অনেক গাছ পুরোনো হয়ে গেছে এবং নতুন গাছ লাগানোর প্রক্রিয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারী সহযোগিতা ছাড়া আমরা সবুজায়ন ধরে রাখতে পারছি না।”

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএ) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, “বর্তমানে ফরিদপুর জেলায় মোট ৯৫ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে প্রতিবছর ৩’শ ৫০ মেট্রিক টন খেজুর গুড় উৎপাদন করা হয়।”

তিনি বলেন, খেজুরের রস কমে যাওয়া একটি গুরুতর বিষয়। এটি শুধু চাষিদের আয়ের উপর প্রভাব ফেলছে না, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা নতুন খেজুর গাছ রোপণ এবং রোগমুক্ত জাতের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। এছাড়া চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কিভাবে কম সময়ের মধ্যে বেশি রস সংগ্রহ করা যায়।”

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের বক্তব্যে জানা গেছে, খেজুর গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় চাষিদের অংশগ্রহণ জরুরি। তারা আরও বলছেন, স্থানীয় যুবকদেরকে খেজুর চাষ ও রস উৎপাদনে উৎসাহিত করলে এই ধারা পুনরায় স্থায়ী করা সম্ভব।

ফলস্বরূপ, ফরিদপুরে খেজুর চাষের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে সময়োপযোগী উদ্যোগ না নিলে, ভবিষ্যতে খেজুর রস এক বিলাসী পণ্য হিসেবে সীমিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন