ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়বা ইউসুফ আহমেদ। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তাঁর হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত তথ্য, আয়-ব্যয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক।
হলফনামা অনুযায়ী, নায়বা ইউসুফ আহমেদ ১৯৭০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও শাইলা কামালের কন্যা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তালাকপ্রাপ্ত। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ফরিদপুর পৌরসভার কুঠিবাড়ী কমলাপুর এলাকায় অবস্থিত ‘ময়েজ মঞ্জিল’।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে নায়বা ইউসুফ আহমেদ বি.কম (পাস) ডিগ্রিধারী। পেশা হিসেবে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে হলফনামায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বা বিবরণ দেননি। তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৫১ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, নায়বা ইউসুফ আহমেদের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৭ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৬ লক্ষ ২০ হাজার ৩৯৬ টাকা। পাশাপাশি তাঁর নামে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ১০ টাকার বন্ড রয়েছে। স্বর্ণালংকার হিসেবে তিনি ২৫ ভরি স্বর্ণের মালিক বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তবে সঞ্চয়পত্র কিংবা কোনো ফিক্সড ডিপোজিট নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও নায়বা ইউসুফ আহমেদের উল্লেখযোগ্য মালিকানা রয়েছে। তাঁর নামে কৃষিজমি রয়েছে মোট ২৫০ শতাংশ এবং অকৃষি জমির পরিমাণ ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি একটি ৫০০ বর্গফুট আয়তনের দোকানের এক চতুর্থাংশের মালিক। আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে তিনি সাড়ে ৫ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের এক চতুর্থাংশ অংশের মালিকানা দেখিয়েছেন।
আয়কর সংক্রান্ত তথ্যেও তাঁর হলফনামায় বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। আয়কর বিবরণীতে তিনি মোট ৪৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৪০৬ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। এর বিপরীতে প্রদত্ত আয়কর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৭৪৬ টাকা। হলফনামায় তাঁর বা তাঁর ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা দণ্ডাদেশের তথ্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ে নায়বা ইউসুফ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা জানান দলীয় নেতারা।
ফরিদপুর সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে তাঁর উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মামলা না থাকা, তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ সম্পদ বিবরণী এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তাঁকে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে নায়বা ইউসুফ আহমেদ হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ফরিদপুর সদর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চান। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও স্থানীয় সমস্যা জাতীয় সংসদে তুলে ধরার অঙ্গীকারও রয়েছে তাঁর নির্বাচনী ভাবনায়।
সব মিলিয়ে ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির এই নারী প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামা থেকে পাওয়া তথ্য ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। স্বচ্ছতা, মামলা-মুক্ত রাজনৈতিক পরিচয় ও উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্য নিয়ে নায়বা ইউসুফ আহমেদ কতটা আস্থা অর্জন করতে পারেন—সেই দিকেই এখন তাকিয়ে ফরিদপুর সদরের ভোটাররা।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৭:৪৬ এএম