ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন প্রভাবশালী নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য নির্বাচিত পদে বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।
পদত্যাগকারীরা হলেন—মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফসার উদ্দিন মাতুব্বর, সহ-সভাপতি মো. এসকেন মাতুব্বর, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মোল্লা, ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইছাহাক মাতুব্বর এবং উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মো. বছির মাতুব্বর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও তৃণমূল পর্যায়ে অবমূল্যায়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকা, দলীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব এবং সংগঠনের ভেতরে ‘একচেটিয়া নেতৃত্বের’ কারণে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। এসব কারণেই তারা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
তারা আরও দাবি করেন, বিএনপির গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের ঘোষিত লক্ষ্য তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামী দিনে সালথা উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনের পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে দেখে এসব নেতা দলত্যাগ করছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—দল ছাড়লেও কেন তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত পদ ছাড়ছেন না?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় সচেতন নাগরিক জানান, “যে প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হয়েছেন, সেই দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। পদত্যাগ করলে চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত।”
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এরা কেউই তৃণমূল আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না। সুবিধাভোগী রাজনীতির অংশ হিসেবেই আজ নতুন অবস্থান নিচ্ছেন।”
অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে ভাঙন শুরু হয়েছে এবং এ যোগদান ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংবাদ সম্মেলনে সালথায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালথার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ ও তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৫:৩১ পিএম