ফরিদপুর জেলায় হঠাৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উধাও হয়ে যাওয়ার খবর অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিনে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সকালে ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা, আলিপুরসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী। অভিযানে দোকানগুলোর ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্র, মজুদ পরিস্থিতি ও মূল্য তালিকা যাচাই করা হয়। এ সময় ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে গ্যাসের প্রাপ্যতা ও দাম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “ফরিদপুরে হঠাৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উধাও হওয়ার সংবাদে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) স্যারের নির্দেশে আমরা মাঠে নেমেছি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র যাচাই ও ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপাতত কাউকে জরিমানা করা হয়নি, তবে মনিটরিং নিয়মিত চলবে।”
তিনি আরও জানান, সংকট নিরসনে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এডিএম স্যারের নেতৃত্বে ফরিদপুরের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত ন্যায্য মূল্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
এদিকে, একইদিন দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নগরকান্দা উপজেলার মোল্যা স্টোর ও সুমাইয়া স্টোরে অভিযান চালিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির সত্যতা পাওয়ায় প্রত্যেককে ৮ হাজার টাকা করে মোট ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া। তিনি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের সদর, ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, সদরপুর ও চরভদ্রাসনসহ অধিকাংশ উপজেলায় এলপিজি গ্যাসের বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা।
এদিকে প্রশাসনের অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা। তাদের আশা, নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট দ্রুত দূর হবে এবং ন্যায্য মূল্যে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে।
প্রসঙ্গ, সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাতে “ফরিদপুরে হঠাৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উধাও—সংকটে গ্রাহক, নীরব প্রশাসন” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘।

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৭:২১ পিএম