সুন্দরী নারীর প্রেম ও ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভনে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন ঢাকার উত্তরা এলাকার এক ব্যবসায়ী যুবক। স্টুডেন্ট ভিসায় ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বিজ্ঞ আদালতে প্রতারণা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগীর নাম মফিজুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামর ভূরুঙ্গামারী উপজেলায়। তিনি বর্তমানে ঢাকার উত্তরা এলাকায় প্রাইভেটকারের ব্যবসা করেন।
মফিজুল ইসলাম জানান, উত্তরা এলাকায় পাশাপাশি ভাড়া বাসায় থাকার সুবাদে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রুপালী খাতুন ওরফে সুমি’র সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। রুপালী নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দেন এবং স্টুডেন্ট ভিসায় ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
তিনি আরও জানান, ইউরোপে যাওয়ার প্রক্রিয়ার কথা বলে সুমি তাকে প্রথমে মালয়েশিয়া নিয়ে যান। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখানোর কথা বলে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯ লাখ টাকা জমা রাখতে বলেন। বিশ্বাস করে তিনি ওই অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জমা দেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা।
অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার পর রুপালী খাতুন তার ভাড়া করা লোকজন দিয়ে মফিজুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক দেশে পাঠিয়ে দেন। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। পরে প্রতারিত হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমি সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই এবং এর সঠিক বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুপালী খাতুন ও তার মা সুফিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক বিবাহ ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সুন্দরী হওয়ায় রুপালী ঢাকায় চার-পাঁচটি বিয়ে করেছেন, তার একাধিক স্বামী রয়েছে এবং একটি সন্তানও আছে। তিনি বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুপালী খাতুনের মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী দ্রুত আইনি প্রতিকার ও তার অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৮:০০ পিএম