ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অম্বিকাচরণ মজুমদারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কলেজ চত্বরে অবস্থিত তাঁর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ফুল দিয়ে সম্মান জানান সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল হালিম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৈতন্য চন্দ্র দাশ এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষার্থী নিরব ইমতিয়াজ শান্ত, মামুন রহমান, মোল্লা আবির, সিনহা আহমেদ, ইরিনা জাহানসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা অম্বিকাচরণ মজুমদারের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষা বিস্তার, সমাজ সংস্কার ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এ উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গণে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থী ও সংগঠক নিরব ইমতিয়াজ শান্তের ব্যবস্থাপনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল হালিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৈতন্য চন্দ্র দাশ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন থিয়েটার কর্মী ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোল্লা আবির এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন রহমান।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, অম্বিকাচরণ মজুমদার শুধু একজন শিক্ষানুরাগী নন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী সমাজচিন্তক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও আলোকবর্তিকা হয়ে সমাজকে আলোকিত করে চলেছে।
উল্লেখ্য, অম্বিকাচরণ মজুমদার ১৮৫১ সালের ৬ জানুয়ারি তৎকালীন ফরিদপুর জেলার বর্তমান মাদারীপুর জেলার সেনদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রাধা মাধব মজুমদার এবং মাতা শুভদ্রাদেবী। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার সপ্তম সন্তান। ১৯২০ সালে তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। উনবিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং ফরিদপুর অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে রেখেছেন গভীর প্রভাব। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে তিনি ১৯২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৯:৫৩ পিএম