চোখের সামনে রাস্তাটা একটা শীতল দুপুরের মতো ছিনতাই হয়ে গেল— যেন ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে হঠাৎ উধাও কোনো নদী।
প্রাণপণে খুঁজে পাওয়া একটা চলন্ত সিঁড়ি, একটা লিফট— শহরের এই কংক্রিট জঙ্গলে
দুটোই ছিল শেষ আশার পাখি;
মুহূর্তেই তারা মবের দাঁতে ছিন্নভিন্ন।
ইন্টারভিউ বোর্ডের দিকে যেতে হবে আমাকে—
পেছনে অগণিত বুভুক্ষু মুখ— চোখে তাদের অনাবৃষ্টির ফাটল; আর একজন দেবাঞ্জনা—
নক্ষত্রের মতো দূরে, তবু সমস্ত আলো তার দিকে।
আমরা গ্রামীণ— এটেল মাটির গতর,
আমাদের ছোঁয়ায় শহুরে শরীর গলে যায়,
যেমন হেমন্তের রোদে ভাঙে শীতল কুয়াশা।
মল্লযুদ্ধের মতো দিন আমাকে ঠেলে নিয়ে গেলো
ইন্টারভিউ বোর্ডে; পরীক্ষার মাঠে সবাইকে পেছনে ফেলে আমি টপার— হঠাৎ চুপসে গেলো আশার বেলুন, যেন শিশিরভেজা আকাশে ফেটে পড়া এক স্বপ্ন।
অল ফার্স্টক্লাস সিভি শত টুকরো হয়ে
উড়লো— কাকের পালকের মতো অপরিচিত বাতাসে।
ক্লান্ত শরীর নীরবে দেখলো—
কোটা-মুক্ত আন্দোলন এখনো
সুপারিশের খাঁচায় বন্দী!
যেখানে এখনও অগণিত ভবিষ্যৎ
একটা পিঁপড়ার মতো
বারবার দেয়ালে ঠোকর খায়।

কাজী হাসান ফিরোজ
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১:১৮ পিএম