ফরিদপুরে ফেসবুক পোস্ট ও লাইভে বদলে গেল দৃশ্য, সরলো সড়কের মাঝের খুঁটি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১১:২৫ এএম

দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ ও ঝুঁকির অবসান ঘটলো অবশেষে। ফরিদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ডা. সি. স্প্রংক সড়কের মাঝখানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকদের প্রতিবাদ, ফেসবুক পোস্ট ও লাইভের ধারাবাহিক চাপের মুখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর ফরিদপুরের স্থানীয় সাংবাদিক হারুন-অর-রশীদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি প্রথম জোরালোভাবে তুলে ধরেন। ‘ফরিদপুরে রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি, ঘটছে দুর্ঘটনা!’—শিরোনামে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফরিদপুর পৌরসভা ও জেনারেল হাসপাতালের মাঝ দিয়ে যাওয়া ব্যস্ত সড়কটির একেবারে মাঝখানে একটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে, যা নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

এরপর বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ফেসবুকে লাইভে এসে সরাসরি প্রতিবাদ জানান। লাইভে তিনি খুঁটিটির কারণে যানজট, দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন এবং দ্রুত অপসারণের দাবি জানান। তার সেই লাইভ ও নাগরিকদের একাধিক পোস্টে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

সর্বশেষ নাগরিকদের দাবির প্রেক্ষিতে শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ বিভাগ ডা. সি. স্প্রংক সড়কের মাঝখানে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের খুঁটিটি অপসারণ করে। এতে এলাকাবাসী ও পথচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

এ বিষয়ে সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “ওই খুঁটিটির কারণে শহরে চরম জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছিল। যানজট বেড়ে গিয়েছিল, দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল সব সময়। পৌর নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে আমি সিভিল সার্জন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলি এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বুঝিয়ে বলি। পরে তারা ব্যবস্থা নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “এটা প্রমাণ হয়েছে—নাগরিক সচেতনতা, ফেসবুক পোস্ট ও লাইভ একসঙ্গে হলে প্রশাসনও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়।”

সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি খুঁটি অপসারণের নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহারে জনস্বার্থ রক্ষার একটি সফল দৃষ্টান্ত। এখন ফরিদপুর শহরের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন