ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্রকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন একই আসনের অপর প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফর। আপিলের রায় তার অনুকূলে গেলে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আপিল আবেদন জমা দেন শাহ মো. আবু জাফর। তিনি ফরিদপুর-১ আসনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় খন্দকার নাসিরুল ইসলামের দাখিল করা কাগজপত্রে একাধিক গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিশেষ করে তার জমা দেওয়া আয়কর সনদ প্রার্থীর নিজ নামে ইস্যুকৃত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আয়কর নথিতে উল্লিখিত তথ্যের সঙ্গে হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের সুস্পষ্ট অমিল লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত আরও কয়েকটি দলিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে।
নির্বাচনী আইন ও বিধি অনুযায়ী, এমন অনিয়ম থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য। তবে অভিযোগ রয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা ওই মনোনয়নপত্র তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল না করে স্থগিত রাখেন এবং বিকেল চারটা পর্যন্ত সংশোধনের সুযোগ প্রদান করেন।
এ নিয়ে অন্যান্য প্রার্থীরা অভিযোগ তুলেছেন, একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীকে এভাবে অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়া নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী এবং এতে নির্বাচনের সমান মাঠ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মতে, এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এসব বিষয় উল্লেখ করে শাহ মো. আবু জাফর নির্বাচন কমিশনের কাছে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
শাহ মো. আবু জাফর বলেন, “একজন প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নির্বাচনে টিকিয়ে রাখলে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছি।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি দুপুরে আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনের রায়ের ওপর নির্ভর করছে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের প্রার্থিতার ভবিষ্যৎ।
বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত খন্দকার নাসিরের বিপক্ষে গেলে আসনটির রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০:১৪ পিএম