রাতে ঠিকমতো না ঘুমালে বাড়ে যেসব ঝুঁকি

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৬:১৪ এএম

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের বিকল্প নেই—এ কথা বারবারই বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ দেহ ও সতেজ মন বজায় রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু শারীরিক ক্লান্তিই বাড়ে না, বরং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে মানসিক চাপ, অবসাদ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

💤 ঘুমের মান উন্নত করে জৈবিক ঘড়ি:

মানবদেহের নিজস্ব একটি জৈবিক ঘড়ি রয়েছে, যা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস এই জৈবিক ঘড়িকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে। ফলে ঘুমের আরইএম (র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) পর্যায় ঠিক থাকে, যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো ও গভীর ঘুম মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, স্মরণশক্তি উন্নত করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

⚡ বাড়ায় এনার্জি ও কর্মক্ষমতা:

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন শরীরে ক্লান্তি ভর করে। কাজে মনোযোগ কমে যায়, চোখ ঢুলতে থাকে এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

অন্যদিকে ৭–৮ ঘণ্টা পরিমিত ঘুম দেহের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, সারাদিন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও উদ্যম পাওয়া যায়।

⚖️ নিয়ন্ত্রণে রাখে হরমোন:

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা বেড়ে যায়। এতে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত ভালো ঘুম দেহের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে হরমোনজনিত নানা সমস্যার পাশাপাশি ডিপ্রেশন ও ডায়াবেটিসের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

🔥 উন্নত করে মেটাবলিজম:

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু সঠিক খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়—এর সঙ্গে প্রয়োজন নিয়মিত ভালো ঘুম। পর্যাপ্ত ঘুম বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং অ্যাসিডিটি, ব্লোটিং ও রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

🌙 যেভাবে পাবেন গাঢ় ও আরামদায়ক ঘুম:

বিশেষজ্ঞরা কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—

-ঘুমাতে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন বা স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

-প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন

-বিকেলের পর চা, কফিসহ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার করুন

-রাতে খুব ভারী খাবার ও ঘুমের আগে ভারী শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন

-ঘুমের আগে বই পড়া, হালকা গান শোনা বা মেডিটেশন করলে মন ও শরীর শান্ত থাকে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত ঘুম শুধু আরাম দেয় না, বরং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই সুস্থ থাকতে ঘুমকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন