ফরিদপুর পৌরসভার অরক্ষিত ড্রেনেজে ঝুঁকিতে জনজীবন, অবহেলা চরমে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০:৩৭ এএম

ফরিদপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন নগরবাসী। খোলা ও ভাঙাচোরা ড্রেনেজে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল হয়ে উঠেছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

পৌরসভার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—প্রায় সর্বত্রই দেখা যায় ঢাকনাবিহীন ড্রেনেজ। কোথাও কোথাও ড্রেনের ওপর থাকা স্ল্যাব ভেঙে পড়ে রয়েছে, আবার অনেক স্থানে পুরোপুরি উন্মুক্ত ড্রেন। সন্ধ্যার পর আলো স্বল্পতার কারণে এসব ড্রেন চোখে পড়ছে না, ফলে পথচারীরা হঠাৎ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধ।

শহরের ঝিলটুলী, গোয়ালচামট, চরকমলাপুর, নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ও জেলা কারাগারের সামনের ড্রেনেজ সমস্যার চিত্র আরও ভয়াবহ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার পৌরসভায় জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেক স্থানে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে ড্রেন ঢেকে রাখা হলেও তা টেকসই নয় এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অরক্ষিত ড্রেনেজ শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। খোলা ড্রেনে জমে থাকা ময়লা ও নোংরা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটে, বাড়ছে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি। শিশুদের খেলাধুলার সময় এসব ড্রেনে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

এব্যাপারে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, ‘পৌরসভার বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি কর্মকর্তারা। ওই কর্মকর্তারা অন্য জেলার মানুষ। ফরিদপুর শহর নিয়ে তারা খোঁজ খবর রাখেন না। অনেকে আগ্রহ দেখান না। পৌরসভার দায়িত্বে জনপ্রতিনিধিরা থাকলে তারা স্থানীয় লোক হিসেবে সব জায়গা চিনতেন, কাজও করতেন।’

তিনি বলেন, ‘আ.লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন, তারা পৌরসভার ফান্ড অনেকটা শূন্য করে দিয়ে গেছেন। তাইতো, ফান্ডের অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। ফলে, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। তবে, আশা করি অতিশ্রীঘ্রই এ ব্যাপারে বর্তমানে থাকা পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবেন।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, “ড্রেনেজ সংস্কার ও ঢাকনা বসানোর জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু হবে।” তবে কবে নাগাদ নাগরিকদের এই দুর্ভোগের অবসান হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো সময়সীমা দিতে পারেননি।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত অরক্ষিত ড্রেনেজগুলো ঢেকে দেওয়া, ভাঙা স্ল্যাব মেরামত এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জননিরাপত্তা রক্ষায় পৌরসভার অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

 

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন