ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ইকরাইল এলাকায় অবস্থিত খাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে এক নারী শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মুস্তাক হোসেনের বিরুদ্ধে।
ঘটনা ঘটে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম ফারহানা নাঈম, তিনি বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা এবং সাবেক প্রধান শিক্ষিকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনে প্রধান শিক্ষক তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তপাতের শিকার হন।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পরিবার জানায়, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক ফারহানা নাঈমের কাছে অবৈধভাবে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করলে প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকার একটি চেক রেখে দেন। এরপর থেকেই তাকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল।
ঘটনার দিন পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আশপাশের লোকজন দ্রুত গ্রাম্য চিকিৎসক শংকরকে ডেকে এনে আহত শিক্ষিকার প্রাথমিক চিকিৎসা করান। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন নারী শিক্ষিকার উপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং নারী নিরাপত্তা ও শিক্ষক সমাজের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পুত্র এস. এম. নাফিউর রহমান প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাক হোসেন বলেন, “সহকারী শিক্ষিকা আমার বড় বোন। আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়েছে।” তবে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমি জানিয়েছেন, “খাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে একজন নারী শিক্ষিকার উপর শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৯:৪০ পিএম