ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গাড়াখোলা গ্রামের দুটি পরিবার উচ্ছেদ ও হামলার আশঙ্কায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। নিজেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান তার পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় প্রভাবশালী মিলন বিশ্বাস ও তার ছেলে শিহাব বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি চক্র পরিবার দুটিকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণঘাতী ঘটনার শঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
মিজানুর রহমান জানান, মধুখালী বাজার এলাকার ৯৬ নম্বর গাড়াখোলা মৌজার বিএস খতিয়ানভুক্ত ১১৫৩ নম্বর দাগে চার ভাইয়ের মোট ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেক ভাইয়ের আড়াই শতাংশ করে মালিকানা থাকার কথা। কিন্তু বড় ভাই লুৎফর রহমানকে প্রলোভনে ফেলে মিলন বিশ্বাস আড়াই শতাংশের পরিবর্তে পাঁচ শতাংশ জমি লিখে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, মিলন বিশ্বাসের ছেলে শিহাব বিশ্বাসের নেতৃত্বে ১৪-১৫ জনের একটি দল গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে সরে যায়। এ ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও এরপর থেকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেরী আক্তার বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা চার ভাই ভাগাভাগি করে এই বাড়িতে বসবাস করছি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। নারী ও শিশুরা আতঙ্কে আছে, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছি।”
অপর ভাই রিজাউল সিকদারের স্ত্রী আলো বেগম অভিযোগ করে বলেন, ২০০৬ সাল থেকে তার স্বামী বিদেশে থাকলেও জাল কাগজের মাধ্যমে পাঁচ শতাংশ জমি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে চাপ সৃষ্টি করে জমি দখল ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিহাব বিশ্বাস বলেন, “আমরা কাউকে কোনো হুমকি দেইনি। লুৎফর রহমানের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি কিনেছি এবং দখল বুঝে পেয়েছি। বরং মিজানুর রহমানের পরিবার আমাদের দখলে থাকা ঘরের তালা ভেঙে দখল করেছে।” তার বাবা মিলন বিশ্বাস কোনো প্রভাব বিস্তার করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মনিরুল ইসলাম টিটু, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৩২ পিএম