চেতনানাশক স্প্রে ও অস্ত্রের ভয়: ফরিদপুরে ডাকাতির ছকে ঘুম হারাচ্ছে মানুষ

মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৪:১৮ পিএম

ফরিদপুরে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গভীর রাতে বসতবাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। এসব ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ভাটি কানাইপুর গ্রামে এক খাবার হোটেল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সময় চার সদস্যের একটি ডাকাতদল বসতঘরের বারান্দার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে বাড়ির মালিক আব্দুল আলী বেপারীর মুখে চেতনানাশক স্প্রে করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা ও সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

ডাকাতির পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আব্দুল আলী বেপারীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলাতেও একই ধরনের ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গত ৯ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের বেজিডাঙ্গা গ্রামে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য বিউটি বেগমের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। সাত থেকে আটজনের একটি ডাকাতদল দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পরিবারের সব সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী বিউটি বেগম জানান, ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি বলেন, “সেই রাতের পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছি না।”

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসানাত খান জানান, ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, এখনো কোনো আসামি বা আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। একই কায়দায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে ঢুকে ডাকাতির একাধিক ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন