নগরকান্দায় সাবেক স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি–ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রবাসী

শফিকুল ইসলাম জনি, নগরকান্দা:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৮:০৩ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় সাবেক স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মাহফুজ সরকার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাহফুজ সরকার গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ডিমলা পদুম শহরের বাসিন্দা। তিনি মো. নুরুন্নবী সরকারের ছেলে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২০ সালের ৮ জুন ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ২৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের আনুমানিক তিন বছর পর মাহফুজ সরকার প্রবাসে চলে যান।

প্রবাসে যাওয়ার পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, প্রবাসে থাকাকালীন মাহফুজ সরকার তার মোবাইল ফোনে ধারণ করা স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠাতে থাকেন। এ ঘটনায় সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তাকে ডিভোর্স দেন।

ডিভোর্সের পর গত বছরের ১০ নভেম্বর মাহফুজ সরকার দেশে ফিরে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্ত্রী ডিভোর্সের বিষয়টি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় গত ১৪ জানুয়ারি বিকেলে তিনি ভুক্তভোগীর বাবার বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাহফুজ সরকারকে আটক করে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন