ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের জমিতে সেচ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় একাধিক বসতবাড়িতে হামলা, পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে এ সহিংসতা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। তারা দুজনই দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উভয়েই বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সহিংসতায় জড়ান তারা। এসব ঘটনায় দুজনকেই জেল খাটতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার বিকেলে। বালিয়া গ্রামের মাঠে পেঁয়াজের জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক মো. শহীদ শরীফের সঙ্গে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক জাহিদ শরীফের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এর জেরে সন্ধ্যার পর বালিয়া বাজারে উভয়পক্ষের সমর্থকরা জড়ো হন।
রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত পাঁচটি বসতবাড়িতে হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে সালথা আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনী ও সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৫:৪৫ এএম