যে খাবারগুলো চুপিসারে দাঁত নষ্ট করছে? জেনে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৩৫ এএম

দাঁত ভালো রাখতে আমরা সাধারণত ব্রাশ আর ফ্লসের কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারও দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। কিছু খাবার দাঁতের এনামেল দুর্বল করে, ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ায় এবং সময়ের সঙ্গে মাড়ির রোগের কারণ হতে পারে।

তাই দাঁতের জন্য কোন খাবার ক্ষতিকর এবং তার ভালো বিকল্প কী হতে পারে, তা জানা জরুরি।

নিচে দাঁতের জন্য ক্ষতিকর কিছু সাধারণ খাবার এবং সেগুলোর তুলনামূলক ভালো বিকল্প তুলে ধরা হলো।

চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও সফট ড্রিংক

কেন ক্ষতিকর : এই পানীয়গুলোতে চিনি ও অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বাড়ায়, ফলে ক্যাভিটি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি, লেবু ছাড়া ফল মেশানো পানি বা চিনি ছাড়া হারবাল চা পান করা ভালো। পানি মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আঠালো মিষ্টি ও ক্যান্ডি

কেন ক্ষতিকর : চিবানো মিষ্টি দাঁতে লেগে থাকে এবং দীর্ঘ সময় চিনি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে থাকে। এতে দাঁত ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়ে।

ভালো বিকল্প : পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট বা চিনি ছাড়া চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে, যা লালা তৈরি বাড়াতে সাহায্য করে।

টক ফল ও ফলের রস

কেন ক্ষতিকর : লেবু, কমলা বা জাম্বুরার মতো টক ফলের অ্যাসিড নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং দাঁত সংবেদনশীল হয়।

ভালো বিকল্প : আপেল বা নাশপাতির মতো শক্ত ফল খাওয়া ভালো। এগুলো লালা তৈরি বাড়ায় এবং দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

বরফ চিবানো

কেন ক্ষতিকর : বরফ চিবোলে দাঁতে ফাটল ধরতে পারে বা দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভালো বিকল্প : খাস্তা কিছু খেতে চাইলে ঠান্ডা গাজর বা সেলারির মতো সবজি খাওয়া যেতে পারে।

শুকনো ফল

কেন ক্ষতিকর : কিশমিশ বা শুকনো এপ্রিকটের মতো ফল আঠালো এবং এতে চিনি বেশি থাকে, যা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে।

ভালো বিকল্প : তাজা ফল খাওয়াই ভালো, কারণ এগুলো সহজে দাঁত থেকে সরে যায়।

আলুর চিপস

কেন ক্ষতিকর : এই ধরনের স্টার্চযুক্ত খাবার মুখে গিয়ে চিনিতে পরিণত হয় এবং দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে।

ভালো বিকল্প : বাদাম বা বীজজাত খাবার খাওয়া ভালো, যা দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

অ্যালকোহলজাত পানীয়

কেন ক্ষতিকর : অ্যালকোহল লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। লালা কমে গেলে মুখ পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়।

ভালো বিকল্প : অ্যালকোহল গ্রহণের সময় ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

স্পোর্টস ও এনার্জি ড্রিংক

কেন ক্ষতিকর : এগুলোতে চিনি ও অ্যাসিড বেশি থাকে, যা শিশু ও বড়দের দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।

ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি বা নারকেলের পানি ভালো বিকল্প হতে পারে।

আচার ও ভিনেগারযুক্ত খাবার

কেন ক্ষতিকর : খুব টক হওয়ায় নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

ভালো বিকল্প : টক খাবারের সঙ্গে দই বা চিজ খেলে দাঁতের ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।

সাদা পাউরুটি ও পরিশোধিত শর্করা

কেন ক্ষতিকর : এই খাবারগুলো দ্রুত চিনিতে পরিণত হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হয়ে দাঁড়ায়।

ভালো বিকল্প : আটা বা পূর্ণ শস্যের রুটি খাওয়া ভালো, যা ধীরে হজম হয়।

চিনি মেশানো চা ও কফি

কেন ক্ষতিকর : চিনি বা সিরাপ মেশালে দাঁতে দাগ পড়ে এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।

ভালো বিকল্প : চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা ভালো। পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া উপকারী। গ্রিন টি দাঁতের জন্য তুলনামূলক ভালো।

খাবার কীভাবে দাঁতের ক্ষতি বাড়ায়

শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন এবং কতবার খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়া, বারবার মিষ্টি পানীয় পান করা বা ঘুমের আগে টক খাবার খেলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে।

দাঁত ভালো রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস

– খাওয়ার পর পানি পান করা

– বারবার স্ন্যাকস খাওয়া এড়িয়ে চলা

– চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবানো

– ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

– খাস্তা ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়া

দাঁতের জন্য উপকারী খাবার

– শাকসবজি যেমন পালং বা লেটুস

– দুধ, দই ও চিজ

– আপেল, গাজর ও সেলারি

– গ্রিন টি

– বাদাম

দাঁত সুস্থ রাখতে শুধু নিয়মিত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে দাঁতবান্ধব খাবার বেছে নিলে ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ এবং এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘদিন দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র : Playa Family Dentistry

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন