ফরিদপুরের সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম চিকিৎসক সংকটের কারণে কার্যত ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা। উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজারসংলগ্ন এই সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটিতে ৯টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। ফলে আউটডোর কোনোভাবে চালু রাখা হলেও বন্ধ রয়েছে জরুরি বিভাগ ও ইনডোর সেবা। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শতাধিক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের পাশাপাশি এখানে দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো টেকনিশিয়ান ও নিরাপত্তা প্রহরী। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার খোয়াড় গ্রামের সানোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর প্রথম দিকে জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও এখন চিকিৎসক সংকট দেখিয়ে সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জরুরি বিভাগে এসে দেখি তালা ঝুলছে, কোনো চিকিৎসক নেই। অথচ বিকেল হলেই ওই চিকিৎসকদের অনেককে বাইরে প্রাইভেট চেম্বারে টাকা নিয়ে রোগী দেখতে দেখা যায়।”
একই অভিযোগ করেন সালথার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বৃদ্ধ বাবাকে হঠাৎ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফরিদপুর শহরে নিতে হয়েছে। এতে সময় ও অতিরিক্ত খরচ—দুটোই বেড়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী সুজন মাতুব্বর বলেন, “ডাক্তারের অভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানো যায় না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও বাইরে যেতে হয়। তাহলে এই হাসপাতাল রেখে লাভ কী?”
সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমাদের এখানে ৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩ জন রয়েছেন। এই স্বল্প জনবল দিয়ে জরুরি ও ইনডোর সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি নেই সিকিউরিটি গার্ড ও টেকনিশিয়ান। তাই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি থাকলেও জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যাচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, চিকিৎসক সংকট ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের বিষয়ে একাধিকবার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, তবে এখনো কার্যকর সমাধান আসেনি।
এ ব্যাপারে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে অতিশ্রীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নতুন চিকিৎসকরা যোগদান করবেন। সেখান থেকে ৮ জন চিকিৎসক সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসক যোগদান করা মাত্রই জরুরি বিভাগ পুনরায় চালু করা হবে।”
তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় সিকিউরিটি গার্ড আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেওয়া যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৪:০৪ পিএম