জমি কেনার স্বপ্নে হুমকি আতঙ্ক : হার্ট অ্যাটাকে ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৫১ পিএম

ব্যবসা সম্প্রসারণের স্বপ্ন ছিল ফরিদপুরের বোয়ালমারীর তরুণ সার ব্যবসায়ী তপন কুমার বিশ্বাসের। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই থেমে গেল তার জীবন। জমি কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ ও বিক্রেতার প্রাণনাশের হুমকিতে চরম মানসিক চাপে পড়ে অসুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের মোড়াগ্রামে। নিহত তপন কুমার বিশ্বাস ওই এলাকার বাসিন্দা ও পরিচিত একজন তরুণ সার ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসা বড় করার উদ্দেশ্যে মোড়া বাজারসংলগ্ন রাস্তার পাশে চার শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন তপন। একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম মোল্যা (৫০)-এর কাছ থেকে জমিটি কেনার জন্য ধাপে ধাপে মোট ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি।

তবে টাকা নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে জমির দলিল লিখে দিতে গড়িমসি করতে থাকেন রফিকুল ইসলাম। একপর্যায়ে জমি লিখে দেওয়া অথবা টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে তপনের সঙ্গে তার বিরোধ চরমে পৌঁছে।

গত মঙ্গলবার সকালে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে তপন কুমার বিশ্বাসকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ এই হুমকিতে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তপন। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে দ্রুত আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তপন কুমার বিশ্বাস হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন দিবাগত রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

তপনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার মরদেহ নিয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান নেন। সেখানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রফিকুল ইসলাম পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে ডহরনগর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিস্থিতি শান্ত করতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা ও পৌর বিএনপির সহসভাপতি মো. ইকরাম মিয়া ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের মধ্যস্থতায় উভয় পরিবারের মধ্যে একটি আপোষ মীমাংসা হয়।

মীমাংসার অংশ হিসেবে রফিকুল ইসলামের পরিবার নিহত তপনের স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক প্রদান করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে জমি লিখে দেওয়া হলে চেকটি ফেরত নেওয়া হবে।

নিহত তপনের বাবা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সনজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে টাকা নিয়েও জমি লিখে দেয়নি। টাকা ফেরত চাইলে আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সেই হুমকিতেই আমার ছেলে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে। আপোষের পর ছেলের সৎকার সম্পন্ন করেছি।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে আপোষ মীমাংসা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

 

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন