ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) জুড়ে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রকাশ্যে লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ব্যানার, পোস্টার ও ক্যাম্প স্থাপনসহ ভোটার প্রভাবিত করার নানা কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী একটি ইউনিয়নে একটি মাত্র ব্যানার টানানোর অনুমতি থাকলেও অনেক ইউনিয়নে অসংখ্য ব্যানার ও পোস্টার টানানো হয়েছে। একইভাবে একটি ওয়ার্ডে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প করার নিয়ম থাকলেও কোথাও কোথাও একাধিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে সমান সুযোগ ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়াও প্রকাশ্যে ভোটারদের খিচুড়ি খাওয়ানো, চা দোকানে বিনামূল্যে চা বিতরণ, অনুমতি ছাড়া পোস্টার লাগানো এবং নিয়ম ভেঙে গাড়ি শোডাউন দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এই অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে জাতীয় পার্টি মনোনীত এমপি প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিলের নেতৃত্বে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার অভাবের অভিযোগ তুলে প্রতীকীভাবে নির্বাচন কমিশনকে “মৃত” ঘোষণা করে কবর দেওয়ার অভিনব প্রতিবাদ জানানো হয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর ঘাট এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে করে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
তারা অবিলম্বে সকল প্রকার আচরণবিধি লঙ্ঘন বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১:৪৩ পিএম