সকালের নাশতায় ভাত—ভালো না খারাপ? যা জানালেন পুষ্টিবিদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৬:১৯ এএম

মাছে বাঙালি প্রবাদটা শুধু বাঙালির জন্যই। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে নানান পদ থাকলেও ভাত তার মধ্যে অনন্য। কেউ দিনের শুরুতে ভাত খেয়ে প্রশান্তি পান, আবার কেউ দিন শেষে ক্ষুধা মেটাতে ভাত খান। অনেকের ধারণা, সকালে পেটভরে খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়। তবে, স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালির কাছে একটি প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়। সকালে ভাত খাওয়া কী আদৌ স্বাস্থ্যকর, নাকি ক্ষতিকর?

এই প্রশ্ন ঘিরে ভিন্নমত আছে পুষ্টিবিদদের মধ্যেই। বিশেষ করে ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত মানুষরা সকালে ভাত খাওয়াকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেন। তবে এটি শরীরের জন্য কতটা উপকারী, তা নির্ভর করে বয়স, কাজের ধরন ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর। এদিকে, ডায়েটিশিয়ান নেহা পাঠানিয়া জানান, সকালে ভাত খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ নয়, তবে পরিমাণ ও সঙ্গে থাকা খাবার গুরুত্বপূর্ণ। বেশি ভাত রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়াতে পারে। আবার সঠিক প্রোটিন ও সবজি যুক্ত হলে এটি শক্তির ভালো উৎসও হতে পারে। তাই অভ্যাস নয়, প্রয়োজন বুঝেই সবার খাদ্য তালিকা ঠিক করা উচিত। সম্প্রতি হেলথ শটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

অনেক মানুষের সকালের খাবারে ভাত একটি স্বাভাবিক অংশ। বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি জাপানেও সকালের পাতে ভাত দেখা যায় নিয়মিত। পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভাত হজমে সহজ এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শরীর শক্তি পায় ধীরে ধীরে। প্রতিদিন ভাত খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর ভাবার কারণ নেই। ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। সঙ্গে যদি বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি যোগ করা যায়, তাহলে ভাত আরও সুষম ও উপকারী খাবারে পরিণত হয়।

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কী পুষ্টিগুণ বিদ্যমান

চাল সাদা হোক কিংবা লাল— ভাতের পুষ্টিমান নিয়ে সন্দেহের সুযোগ কম। প্রতিটি ধরনের ভাতে থাকে শরীরের জন্য দরকারি নানা উপাদান। এতে পাওয়া যায় ফলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ এবং পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদনে সহায়ক উপাদান। এসব কারণে ভাতকে একটি পরিপূর্ণ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে ধরা হয়। তবে ভাত খাওয়ার উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে কখন এবং কতটা পরিমাণে তা খাওয়া হচ্ছে তার ওপর। সঠিক সময় ও সুষম খাদ্যতালিকার সঙ্গে ভাত গ্রহণ করলে শরীর তার সর্বোচ্চ উপকার পেতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মত অনুযায়ী, দিনের শুরুতে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে শরীর সহজেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পায়। সকালবেলা শরীর তুলনামূলক বেশি সচল থাকে, ফলে তখন শক্তির চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। ওজন কমাতে আগ্রহী বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চাইলে সকালে সীমিত পরিমাণ ভাত রাখতে পারেন, এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ ওঠানামার আশঙ্কা কম থাকে। বিপরীতে, রাতের বেলায় ভাত খাওয়া কমানোই শ্রেয়। কারণ ঘুমের আগে ভারী খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং শরীরকে আরাম করতে বাধা দেয়।

এখন চলুন ভাত দিয়ে তৈরি কয়েকটি নাস্তার নাম জেনে নেওয়া যাক

১ . রসুন-ডিম মেশানো ভাত

অল্প সময়েই রান্না করা যায়, আবার ক্ষুধাও মেটায় ভালোভাবে। রসুনে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে। ডিম সরবরাহ করে মানসম্মত প্রোটিন ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ফ্যাট। ক্যালরি তুলনামূলক কম হলেও পুষ্টির ঘাটতি থাকে না।

২. জাফরান পোলাও

বাসমতী চালের সঙ্গে জাফরান, দুধ ও বাদাম মিশিয়ে তৈরি এই খাবারটি স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিতেও সমৃদ্ধ। এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৩. চালের পায়েস

যারা মিষ্টি খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য সকালের নাস্তায় পায়েস হতে পারে ভিন্নধর্মী একটি নির্বাচন। চাল থেকে পাওয়া স্টার্চ অন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি প্রদাহ কমাতে সহায়ক এবং গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

দিনের শুরুতে ভাত খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর বলে উড়িয়ে দেওয়ার কারণ নেই। বরং পরিমিত মাত্রায় এবং সঠিক খাদ্যসংযোজনে ভাত সকালের খাবারকে করতে পারে আরও কার্যকর। শাকসবজি, ডিম কিংবা অন্য কোনো প্রোটিনের সঙ্গে ভাত রাখলে খাবারটি হয়ে ওঠে ভারসাম্যপূর্ণ। এতে শরীর সহজেই প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং কর্মক্ষমতাও থাকে স্থিতিশীল।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন