ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, ধূমপান বা দূষিত পরিবেশ— এসবের ভিড়ে নিজের শরীরের ছোটখাটো সমস্যাকে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না।
একটু কাশি, সামান্য শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া—এসবকে অনেক সময়ই সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এই অবহেলাই একসময় ডেকে আনতে পারে ভয়ংকর বিপদ।
প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব ক্যানসার দিবস। ক্যানসারের মতো মারণরোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই এই দিবসের আয়োজন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে আজ ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়, তবে শর্ত একটাই, সময়মতো রোগ ধরা পড়তে হবে।
সারা বিশ্বে যেসব ক্যানসারে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, তার শীর্ষে রয়েছে ফুসফুস ক্যানসার। আমাদের দেশে ধূমপান, তামাক সেবন, বায়ুদূষণ ও কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকির কারণে এই ক্যানসারের আশঙ্কা আরও বেশি। অথচ ফুসফুস ক্যানসারের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ আগে থেকেই চেনা গেলে এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এই ভয়ংকর রোগ থেকেও সেরে ওঠা সম্ভব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, ফুসফুস ক্যানসারের এমন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যেগুলো অনেকেই অবহেলা করে থাকেন—
১. দীর্ঘদিনের তীব্র কাশি
প্রচণ্ড ও লাগাতার কাশি ফুসফুস ক্যানসারের একটি প্রাথমিক লক্ষণ। দিনের পর দিন কাশি চলতে থাকলে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়ে গেলে বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রায়ই কাশি হওয়া হলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
২. কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া
কাশির সময় কফের সঙ্গে লালচে রক্ত বেরিয়ে আসা ফুসফুস ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। ফুসফুসের ভেতরে ক্যানসার কোষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনটা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
৩. শ্বাসকষ্ট
ফুসফুসে ক্যানসার কোষ যত বাড়তে থাকে, ততই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অল্প কাজেই হাঁপিয়ে যাওয়া, বুক ভরে শ্বাস নিতে না পারা, এগুলো ফুসফুস ক্যানসারের বড় লক্ষণের মধ্যে পড়ে। চিকিৎসকেরা এই উপসর্গে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেন।
৪. বুকে ব্যথা
ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর আরেকটি হলো বুকে ব্যথা। কাশির সময় ব্যথা হওয়া ছাড়াও, অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো জরুরি।
৫. খিদে কমে যাওয়া
হঠাৎ করে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম খাওয়া ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ। নিয়মিত খাবার খেতে না চাওয়া বা রোজকার খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন ভালো লক্ষণ নয়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৬. অকারণে ওজন কমে যাওয়া
ওজন কমে যাওয়া প্রায় সব ধরনের ক্যানসারেরই একটি সাধারণ লক্ষণ। কোনো ডায়েট বা বাড়তি পরিশ্রম ছাড়াই যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তাহলে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের এসব সংকেতকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সচেতনতা আর সময়মতো চিকিৎসাই পারে ফুসফুস ক্যানসারের মতো ভয়ংকর রোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৫:৫৮ এএম