আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬কে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে। আচরণবিধি অনুযায়ী গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো স্থাপনায় ব্যানার, পোস্টার বা ফেস্টুন টাঙানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।
শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশের মেহগনি গাছসহ বিভিন্ন গাছে একাধিক নির্বাচনী পোস্টার টাঙানো রয়েছে। এসব পোস্টারে একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম, ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই নির্বাচনী প্রচারণার আওতায় পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব পোস্টার টাঙানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে শাফিকুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তিনি খোয়াড় গ্রামের জহুর ফকিরের ছেলে এবং ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ রিংকুর অনুসারী বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা পরিচয় দেওয়া শাফিকুল ইসলাম বিএনপির প্রাথী শামা ওবায়েদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা-হামলার ভয় দেখাচ্ছেন। তাইতো তার ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এভাবে গাছে পোস্টার লাগানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতে করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
খোয়াড় গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আচরণবিধি সবার জন্য সমান হওয়ার কথা। কিন্তু প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন শিথিল। গাছে গাছে পোস্টার লাগানো পরিবেশেরও ক্ষতি করছে।”
এ ব্যাপারে সালথার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে সালথা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। এ বিষয়ে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। তারা বিষয়টি দেখছেন। আমি বিষয়টি তাদের অভিহিত করবো। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। কেউ আচরণবিধি ভাঙলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তবে এখনো পর্যন্ত ওই পোস্টারগুলো অপসারণ বা দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই কঠোর নজরদারি ও সমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৪:১২ পিএম