ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে দশ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা শাহ্ আকরাম আলীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি আসনটিতে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ (বুড়িদিয়া) বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভোট চাইতে গেলে আকরাম আলীর বহরভুক্ত গাড়ি আটকানো হয় এবং সেখানে ধানের শীষের স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গাড়ির গ্লাসের বাইরে থেকে কিল-ঘুষি, চর-থাপ্পড় মারার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একই দিন রাত ৮টার দিকে আকরাম আলীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওইদিন গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ এলাকায় প্রচারণা শেষ করে সিংহপ্রতাপের বুড়িদিয়া বাজারে যান। বাজারে গাড়ি থেকে নেমে তিনি দুইটি দোকানে লিফলেট বিতরণ করেন। তৃতীয় দোকানে ভোট চাইতে গেলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যার নেতৃত্বে একদল লোক একত্রিত হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে।
মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, “এসময় প্রার্থীর গাড়ি ও আমাদের ব্যবহৃত গাড়ি আটকে রেখে ধানের শীষের স্লোগান দেওয়া হয়। গাড়িতে কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়। আমাদের কর্মীদের অপমান করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং আকরাম আলী ও তার বহরকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “এভাবে যদি ভোট চাইতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে সুষ্ঠু ভোট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আমরা গভীরভাবে শঙ্কিত। রিকশা প্রতীকের সাধারণ ভোটারদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, রিকশায় ভোট দিলে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়া’ হবে।”
তিনি দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। চলমান নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে এমন ঘটনার ফলে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৯:২৫ পিএম