সালথায় সংবাদ সংগ্রহে বাধা: সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, লিখিত অভিযোগ দায়ের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭:১৩ পিএম

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাধার মুখে পড়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এক সাংবাদিক।

রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সালথার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অভিযোগ করেন সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম।

অভিযোগকারী সাইফুল ইসলাম দৈনিক সমকাল পত্রিকার সালথা উপজেলা প্রতিনিধি এবং সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সালথার আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে বের হন। পথে রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর সাকিনের দাসের বাড়ি মোড় এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৫–৬ জন ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।

অভিযোগে বলা হয়, ওই ব্যক্তিরা তাকে ঘিরে ধরে নানা ধরনের হুমকি দেয় এবং প্রশ্ন তোলে—“তুই শুধু শামা ওবায়েদের নিউজ করিস কেন?” এ সময় তিনি জানান, সাংবাদিক হিসেবে সালথা উপজেলায় ঘটে যাওয়া সব বিষয়েই তিনি সংবাদ করেন। তখন অভিযুক্তরা পাল্টা হুমকি দিয়ে বলে, “কাল রাতে তোর গ্রামে ধলা হুজুরের মিটিং হচ্ছে, সেই নিউজ করিস নাই কেন?”

সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তাদের জানান, তিনি ওই মিটিং সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং সেখানে কোনো প্রার্থী বা সমর্থকের পক্ষ থেকে তাকে দাওয়াতও দেওয়া হয়নি। এরপর অভিযুক্তরা অভিযোগ তোলে যে, ফরিদপুর-২ আসনের রিকশা মার্কার প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের পক্ষে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদের সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে—সে বিষয়ে সংবাদ না করার কারণ জানতে চায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং ১২ তারিখের পর “গাড়িচাপা দিয়ে সাংবাদিকতা শেখানো হবে” বলে ভয়ভীতি দেখায়। এতে তিনি গুরুতর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ সংগ্রহ করি। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে যদি এভাবে হুমকি ও বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে তা শুধু আমার জন্য নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।”

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে।”

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

 

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন