বোয়ালমারীতে জামায়াতের প্রচারণা করায় ভ্যানচালকের চোখে হাতুড়ি হামলার অভিযোগ

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭:৫৭ পিএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার মজুরদিয়া এলাকায় রাজনৈতিক প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক ভ্যানচালকের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই ভ্যানচালককে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মজুরদিয়া বাজারে। আহত ভ্যানচালকের নাম মো. জাহিদ। তিনি ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বাচ্চু শেখের ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভ্যান চালিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট ও প্রচারণার কাজ করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফরিদপুর-১ আসনের এমপি প্রার্থীর প্রচারণা চালাতে ভ্যান নিয়ে মজুরদিয়া বাজারে আসেন জাহিদ। এ সময় বাজারে অবস্থিত একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ভাই মো. আনোয়ার ও মো. মনোয়ার তাকে আটকান। তারা বেড়াদিয়া গ্রামের মৃত রাজ্জাক শেখের ছেলে এবং বিএনপি মনোনীত ফরিদপুর-১ আসনের এমপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দোকান থেকে হাতুড়ি বের করে জাহিদের ওপর হামলা চালান আনোয়ার ও মনোয়ার। চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর একজন অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমন শেখ বলেন, “জাহিদ খুব সাধারণ একজন ছেলে। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। সে কোনো দল করে না। যার কাছ থেকে কাজ পায়, তারই প্রচারণা করে। চোখের সামনে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়েছে, এটা খুবই নির্মম।”

মজুরদিয়া বাজারের এক দোকান কর্মচারী তারিকুল ইসলাম বলেন, “দুই ভাই মিলে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে। একজন মারধর করে দ্রুত পালিয়ে যায়। বাজারে তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”

ঘটনার খবর পেয়ে সাতৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, “একজন ভ্যানচালকের ওপর হামলার বিষয়টি জানতে পেরে আমি সঙ্গে সঙ্গে এখানে এসেছি। বর্তমানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

আহত জাহিদকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন