রোজা অবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ালে কী রোজা ভাঙে?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৬:০১ এএম

রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে মুসলমানরা আত্মসংযম, তাকওয়া ও আল্লাহভীতি অর্জনের চেষ্টা করেন। তবে মানবজীবনের স্বাভাবিক প্রয়োজন, বিশেষ করে অসুস্থতা, সফর, গর্ভাবস্থা কিংবা সন্তান লালন-পালনের মতো বাস্তব পরিস্থিতিতে ইসলামের বিধানও এসেছে সহজতা ও সহানুভূতির বার্তা নিয়ে।

অনেক মা-ই প্রশ্ন করেন, রোজা অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করালে রোজার কোনো ক্ষতি হবে কি না, অথবা সন্তানের প্রয়োজনের কারণে রোজা ভাঙার সুযোগ আছে কি না। ইসলামি শরিয়তের দলিল-প্রমাণ ও ফুক্বাহায়ে কেরামের ব্যাখ্যা থেকে জানা যায়, এ বিষয়ে রয়েছে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, যা একদিকে মায়ের ইবাদতকে গুরুত্ব দেয়, অন্যদিকে শিশুর হক ও স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব আরোপ করে।

চলুন জেনে নিই, রোজা অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করানো যাবে কি না—

ফুক্বাহায়ে কেরাম বলছেন, কোনো নারী যদি রোজা অবস্থায় শিশুকে দুধ পান করান, তাহলে এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা, শরীর থেকে কোনো কিছু বের হলে রোজা ভেঙে যায় না। কারণ, পানাহার ও স্ত্রী সহবাস বর্জন করার নাম হচ্ছে রোজা। সুতরাং রোজা অবস্থায় স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু পেটে অথবা মস্তিষ্কে প্রবেশ করলেই কেবল রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় ভাঙবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩-৩৭১, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ৬-৪০৮, ৪১০ ও ৪১৩)

এক সফরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.)-কে কিছু খেতে দিলে তিনি বললেন, আমি রোজাদার। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বসো, আমি তোমাকে রোযা ও রোযাদার সম্পর্কে কিছু বলব, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের অর্ধেক নামায কমিয়ে দিয়েছেন এবং মুসাফির, গর্ভবর্তী ও দুগ্ধদানকারিনীর জন্য রোযায় ছাড় দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমদ : ১৯০৪৭)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, গর্ভবর্তী ও দুগ্ধদানকারিনী রমজানের রোজা ভাঙ্গতে পারবে। তবে পরে তা কাজা করে নেবে। রোজার বদলে (মিসকিনদেরকে) খাওয়াবে না। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজযাক : ৭৫৬৪)

সূত্র : কালবেলা

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন