ফরিদপুর শহরকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে সম্প্রতি সময়ে ফের জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ। ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা রুজু হওয়া নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী জুলাই যোদ্ধা মো. জনি বিশ্বাস। অনেকে এখানে আসিফকে নিরাপত্তা বাহিনীর মতো জনতার রক্ষাকারী হিসেবে দেখছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মাঠে থাকায় বিভিন্ন সময়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তার।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াই করছেন মোরশেদুল ইসলাম আসিফ। তিনি ফরিদপুর-৩ (ফরিদপুর সদর উপজেলা) থেকে অংশ নিয়েছেন এবং রাজনৈতিকভাবে কোনো বড় দল সমর্থন না থাকলেও জনমুখে জনপ্রিয়তার ক্রমবর্ধমান ছাপ ফেলেছেন।
চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা:
সাম্প্রতিক ঘটনায় জানা যায়, শহরের ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিল ইব্রাহিম শেখ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে বাধা দিলে আসিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যুবকটিকে আটক করেন এবং পুলিশকে হস্তান্তর করেন। পুলিশ পরে তাকে হেফাজতে নেয় এবং মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটি ফরিদপুরবাসীর মধ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি চাঁদাবাজি প্রতিরোধে প্রার্থী নিজেই সরাসরি মাঠে নামার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
মানুষের পাশে জনসেবামূলক কাজ:
চাঁদাবাজিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি আসিফ জনসেবামূলক কাজকেও গুরুত্ব করে চলেছেন, যা দীর্ঘসময় ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি তিনি ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় জরুরি ফগিং এবং মশা নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি উঠিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। এতে তিনি পৌর প্রশাসককে লিখিতভাবে দ্রুত ফগিং, লার্ভিসাইড স্প্রে, ড্রেন ক্লিনিং এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালুর অনুরোধ জানান, বিশেষ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে।
এছাড়া, স্থানীয় গণমাধ্যমেও তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে আসিফ মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রবাসী হিসেবে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের দাতব্য সংস্থা “আসিফ ফাউন্ডেশন” এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “কুরাইশ নিউজ” এর মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে তার মানবিক ও স্থানীয় উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা:
ফরিদপুর-৩ আসনে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসিফের জনপ্রিয়তার ক্রমবিকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে ২৮ জন প্রার্থী লড়াইয়ে থাকলেও ভোটের প্রতীক বরাদ্দে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েছেন, আর আসিফ নিজের প্রতীক হরিণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত নির্বাচনী পর্যায়ে (আগের নির্বাচনে) ফরিদপুর-৩ কেন্দ্রটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল—কয়েকজন প্রার্থীর অফিস বা কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যদিও তখনকার পরিস্থিতিতে পুলিশ তদন্ত করেছিল।
স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া:
ফরিদপুর শহরের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জনতার স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য মাঠে অবস্থান নেয়া প্রতি প্রার্থীর এই ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি সদস্যরা বারবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ চাই—যা তারা মনে করেন কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়, বরং নেতৃত্বদাতা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত।
ভবিষ্যৎ শাসন ও ভোটের পরিশেষে প্রভাব:
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান, জনসেবামূলক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের অনুরোধ—এসব পদক্ষেপ মোরশেদুল ইসলাম আসিফকে শুধুমাত্র ভাইরাল একজন প্রার্থী হিসেবে নয় বরং ‘জনগণের নেতা’ হিসেবে তুলে ধরছে। নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় আলোচনায় এই তথ্যগুলি সমর্থকদের মধ্যে সরবরাহ হলে নির্বাচনী মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ফরিদপুর-৩ আসনে ভোটাররা এখন চাঁদাবাজি বিরোধী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকা প্রার্থীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, এবং এই পরিস্থিতি আসিফের নির্বাচনী অভিযানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এমপি প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ বলেন— ফরিদপুর শহরকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করাই আমার প্রথম অঙ্গীকার। সাধারণ ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষের ঘামঝরা আয় কেউ জোর করে নিতে পারবে না। আমি কোনো দলের শক্তিতে নয়, জনগণের শক্তিতে রাজনীতি করছি। যেখানে অন্যায় দেখবো, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো—এটাই আমার অবস্থান। ডেঙ্গু, মশক নিধন, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা—এসব মৌলিক সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।
তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষ যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। ফরিদপুর-৩ আসনকে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক রাজনীতির মডেল করতে চাই। হরিণ প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ যদি সুযোগ দেন, তাহলে সবার জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করবো।

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১:০৭ পিএম