নির্বাচনের দিনটি অনেকের কাছেই উৎসবের দিনের মতো। সকাল থেকেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, পরিচিত মুখের সঙ্গে কুশল বিনিময়—সব মিলিয়ে এক ধরনের নাগরিক আনন্দ বিরাজ করে।
নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের এই মুহূর্তকে ঘিরে থাকে প্রত্যাশা ও গর্বের অনুভূতি। কিন্তু সেই আনন্দের মধ্যেই যদি হঠাৎ শুনতে হয়, ‘আপনার ভোট তো দেওয়া হয়ে গেছে’—তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে ভর করতে পারে হতাশা, ক্ষোভ কিংবা অসহায়ত্ব।
তবে এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। আইন অনুযায়ী প্রকৃত ভোটার তার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৩১ অনুসারে, কেউ ছদ্মবেশে আগেই ভোট দিয়ে থাকলেও প্রকৃত ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আপনার বিশেষভাবে সচেতন থাকা জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন, কীভাবে নিজের অধিকার নিশ্চিত করবেন, তা জানা থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তেও আপনি সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
প্রিসাইডিং অফিসারকে অবহিত করুন
ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি দেখেন আপনার নামের পাশে স্বাক্ষর বা টিপসই দেওয়া আছে, সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পোলিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারকে বিষয়টি জানান। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখিয়ে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করুন। উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে নিয়ম অনুযায়ী দাবি জানানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
‘টেন্ডারড ভোট’ বা প্রদত্ত ভোটের আবেদন করুন
আইন অনুযায়ী, আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আপনি প্রকৃত ভোটার এবং আপনার ভোট অন্য কেউ ছদ্মবেশে দিয়েছে, তবে প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে ‘টেন্ডারড ব্যালট পেপার’ দিতে বাধ্য। একে বাংলায় ‘প্রদত্ত ভোট’ বলা হয়। এটি আপনার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার একটি আইনি ব্যবস্থা।
কীভাবে টেন্ডারড ভোট দেবেন?
প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে একটি আলাদা ব্যালট পেপার দেবেন, যার পেছনে ‘টেন্ডারড ব্যালট পেপার’ বা ‘প্রদত্ত ব্যালট পেপার’ লেখা থাকবে। আপনি পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল দেবেন এবং ব্যালটটি নিয়ম অনুযায়ী ভাঁজ করবেন।
মনে রাখতে হবে, এই ব্যালট সাধারণ ব্যালট বাক্সে ফেলা হয় না। এটি প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হয় এবং পরে বিশেষ খামে সংরক্ষণ করা হয়।
ভোট গণনায় এর গুরুত্ব কতটা?
প্রাথমিক গণনায় সাধারণত টেন্ডারড ভোট গণনা করা হয় না। তবে কোনো আসনে জয়ের ব্যবধান খুব কম হলে বা ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালতের নির্দেশে এসব ভোট গণনা হতে পারে। ফলে আপনার একটি ভোটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ছদ্মবেশে ভোট দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ
অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়া আইনত অপরাধ। প্রিসাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে পারেন। নির্বাচন আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী এ অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শান্তভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী আপনার অধিকার প্রয়োগ করুন। সচেতন থাকুন, আইন জানুন এবং নিজের ভোটাধিকার নিশ্চিত করুন।
সূত্র : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (ধারা ৩১ ও সংশ্লিষ্ট বিধান); বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভোটগ্রহণ নির্দেশিকা; দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (প্রতারণা ও ছদ্মবেশ সংক্রান্ত ধারা)

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৩:২৪ এএম