ফরিদপুরের সালথায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রিয় সালথাবাসী, আপনারা ধৈর্য ধরুন এবং শান্ত থাকুন। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”
এমপি শামা ওবায়েদ আরও বলেন, এলাকায় বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে উত্তেজনা এড়িয়ে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এবং পাশ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সালথার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে মসজিদের ভেতরে ভোট দেওয়া নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, আহতদের অধিকাংশই বিএনপি সমর্থক। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এমপি শামা ওবায়েদ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজকের সহিংসতায় যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সহযোগিতায় সবাই এগিয়ে আসুন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সালথার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন।

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১:২৪ পিএম