রাজনীতিতে সমঝোতার ইঙ্গিত, তারেক রহমানকে নিয়ে জামায়াতের আমীরের ফেসবুক পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৮:৩৬ পিএম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের একটি ফেসবুক পোস্ট।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, একইদিন তার নিজ আবাসিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের আগমন ঘটে। এই সাক্ষাৎকে তিনি দেশের জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সফর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

তিনি আরও লিখেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। যেখানে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমান এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের সহিংসতা বা প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি এই আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের কোনো নাগরিক যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা আপসহীন থাকবেন। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে সমর্থন দেওয়া হলেও, যেখানে জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে সেখানে তারা সোচ্চার ভূমিকা রাখবেন।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সংঘাত নয়, বরং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করা। একটি কার্যকর সংসদই পারে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের সংলাপ ও পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময় দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। এটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি সহনশীল, অংশগ্রহণমূলক ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন