বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে মুখর হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নবকাম পল্লী কলেজ ক্যাম্পাস। দেশীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পিঠা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করেন নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
মেলায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৮টি স্টল, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা প্রস্তুত ও পরিবেশন করছেন। স্টলগুলোতে সাজানো হয়েছে গ্রামীণ বাংলার জনপ্রিয় পিঠা—চিতই পিঠা, দুধ চিতই, ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা, তেল পিঠা, মাংস পিঠা, মাছ পিঠা, তারাপিঠা ও জামাই পিঠাসহ নানা রকমের সুস্বাদু খাবার। প্রতিটি স্টলেই দেখা গেছে নান্দনিক সাজসজ্জা, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মেলা হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। তারা শুধু পিঠা তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং প্রতিটি পিঠার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এতে করে নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতি তুলে ধরার একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে মেলাটি প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মেলায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোসায়েদ হোসেন ঢালী, উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, কো-অপ্ট সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, স্থানীয় বিএনপি নেতা বাবুল হোসেনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিঠা মেলা শুধু বিনোদনের নয়, এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, দলগত কাজের মনোভাব এবং সাংস্কৃতিক চেতনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
দুই দিনব্যাপী এ পিঠা মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ গ্রহণ করছেন।
মেলার আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে নতুন প্রজন্ম তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত হতে পারে।

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১:০৯ এএম