চাঁদা না পেয়ে ফরিদপুরে বাস কাউন্টারে হামলা, ম্যানেজারকে রক্তাক্ত জখম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৯:২২ পিএম

ফরিদপুরে চাঁদার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে একটি পরিবহন কাউন্টারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিকাশ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নাজির বিশ্বাসকে (৪৫) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা প্রায় ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের পৌর বাস টার্মিনালে অবস্থিত বিকাশ পরিবহনের কাউন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ৬ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় তাদের হাতে রামদা, লোহার দণ্ডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল।

আহত নাজির বিশ্বাস নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলার লাহুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিকাশ পরিবহনের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের মালিকের মৃত্যুর পর থেকে তিনিই কার্যত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিন এখান থেকে দূরপাল্লার উদ্দেশ্যে প্রায় ১২টি ট্রিপ পরিচালিত হয় বলে তিনি জানান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজির বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রথমে তারা প্রতিটি ট্রিপ থেকে ৮টি করে সিট দাবি করে এবং প্রতিটি সিটের জন্য ১০০ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং সর্বশেষ দুই লাখ টাকা এককালীন দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে দুর্বৃত্তরা এসে হুমকি দিয়ে যায়—চাহিদা পূরণ না করলে পরিবহন চলতে দেওয়া হবে না। কিছুক্ষণ পর তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং রামদা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেন। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

নাজির বিশ্বাস দাবি করেন, হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় মিলন, সবুজ ও প্রিন্স নামে তিনজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও সহকর্মীরা।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন