আত্মশুদ্ধি, সংযম আর রহমতের বার্তায় পবিত্র রমজান

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৮:৫২ পিএম

রমজান মাস মুসলিম বিশ্বে রহমত ও বরকতের বার্তা নিয়ে আসে। আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সময়। রমজান মাসে মুসলমানরা সিয়াম সাধনা করে, ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে।

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য, পবিত্র রমজান মাস হলো প্রতিফলন এবং প্রার্থনার একটি পবিত্র সময়। রমজান আশা, রহমত এবং বরকত এর এক মহৎ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে। এ মাস হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য আত্মচিন্তা ও প্রার্থনার এক পবিত্র সময়, আশা ও এক মহৎ দর্শনের প্রতীক।

এই পবিত্র মাসে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মানুষের জন্য আরও সুন্দর, উদার ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে। কিন্তু মানব পরিবারের অনেক সদস্যের কাছে এই দৃষ্টিভঙ্গি দূরবর্তী থেকে যায়।

রমজানের রহমত ও বরকত:

আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল করেন। এই মাসে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে, যা মুসলমানদের জন্য হেদায়েত ও পথনির্দেশিকা।

ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের সুর:

রমজান মাসে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের সুর বয়ে যায়। এ মাসে মুসলমানরা একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করে, একে অপরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে। এই মাসে মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজের জন্য মুসলমানরা একত্রিত হয় এবং একসাথে ইবাদত করে। এই সম্মিলিত ইবাদত মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি জাগ্রত করে।

রমজানের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের দরজা খোলা থাকে। অথচ আফগানিস্তান থেকে ইয়েমেন, গাজা থেকে সুদান এবং তারও বাইরে সংঘাত, ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি, বৈষম্যসহ নানান দুর্ভোগে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বিভেদ দূর করতে ও দুঃখ কষ্টে থাকা মানুষের কাছে সহায়তা ও আশা পৌঁছে দিতে এবং প্রত্যেক মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে এই কঠিন ও বিভক্ত সময়ে রমজানের চিরন্তন বার্তা স্মরণ করা প্রয়োজন।

আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ:

রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য অনেক সুসংবাদ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এই মাসে একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, তা হলো লাইলাতুল কদর। রমজান মাসে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেন…ইনশাআল্লাহ। এই মাসে দান-সদকা ও ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়।

সহমর্মিতা ও সহানুভূতি:

রমজান মাসে মুসলমানরা সহমর্মিতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা করে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুসলমানরা ক্ষুধার্ত ও দরিদ্রদের কষ্ট অনুভব করে এবং তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তারা দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের সাহায্য করে এবং তাদের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করে। এই সহমর্মিতা ও সহানুভূতি মুসলিম সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনে।

রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য:

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেয়। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তারা তাদের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। মুসলমানরা এই মাসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং বিশ্ববাসীর জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির দোয়া করে।রমজান মাসে, অনেক শিশু রাতের নামাজের জন্য একত্রিত হওয়া, একসাথে ইফতার করা এবং শিল্প, খেলাধুলার মতো কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে আনন্দ খুঁজে পায় যা উৎসবের সময় তাদের বিনোদন দিতে সাহায্য করে।

রমজান মাস মুসলিম বিশ্বে শান্তি, বরকত, ও রহমতের বার্তা বয়ে আনে। এই মাসে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত নাজিল করেন। মুসলমানরা এই মাসে সিয়াম সাধনা, ইবাদত-বন্দেগি এর পাশাপাশি দান-সদকা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে। রমজানের এই পবিত্র মাসে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, সহমর্মিতা, এবং শান্তির সুর বয়ে যাক, এই কামনা করি।

আল্লাহ আমাদের সকলকে রমজানের বরকত দান করুন এবং আমাদের মধ্যে মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করুন। বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সহমর্মিতার সুর বয়ে যাক এবং পৃথিবীতে শান্তি বর্ষণ করুক, আমিন।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন