ফরিদপুরে আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১০:৪৯ পিএম

দীর্ঘ ১৮ মাস পর ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই নেতা—সেখ সৌরভ ও মো. শাওনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, দলীয় কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলনের পর উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয়ে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল না। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ করে পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিষিদ্ধ ঘোষিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী কাওসার টিটো বলেন, “ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। হাজারো চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীরা সুযোগ পেলেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ এখনও লক্ষ্য করা যায়নি। আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ নিয়ে কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও সবসময় নজরে রাখা সম্ভব হয় না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও তারা মনে করেন।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও, আবার কেউ আইনগত প্রশ্ন তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে আলফাডাঙ্গা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন