ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর, শিশুসহ আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১০:০১ পিএম

ফরিদপুর সদর উপজেলার শহরতলীর বাখুন্ডা এলাকায় জামায়াত কর্মীদের বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাংচুর এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন জেলা জামায়াতের নেতারা। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও দোকান ঘুরে দেখেন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা মো. আজিজুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জামায়াত কর্মী আলমগীর হোসেন ও সজিব আহত হয়েছেন। ভাংচুরের সময় জানালার কাচ ভেঙে সজিবের ঘুমন্ত সন্তানের ওপর পড়ে তার কানে আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

জেলা জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাখুন্ডা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালায়। তারা কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে এবং আলমগীর হোসেন ও তার সহকর্মী সজিবের বাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা আলমগীর হোসেনের ভাই আজিজুলকে ধাওয়া করে বাড়ির পাশের ফসলের জমিতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। একই সময় আলমগীর হোসেনকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের একজন গেরদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এলাকায় গণ্ডগোলের খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, একটি দোকানে বসা অবস্থায় জুয়েল নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব টেলিফোনে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিন, সেক্রেটারি প্রফেসর আব্দুল ওহাব, কোতোয়ালি থানা আমীর মো. জসীম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধ করা সম্ভব হবে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন