ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের ইজারা নিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সন্ত্রাসীদের ভয়-ভীতি ও বাধার কারণে একাধিক ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার ইজারা নিতে মোট ৪৭ জন সিডিউল ক্রয় করেন। কিন্তু গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে দরপত্র জমা দিতে গেলে জেল ফেরত সন্ত্রাসী ও কিছু দুষ্কৃতিকারী তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং জমা দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। এতে করে অন্তত ছয়জন ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, “আমরা নিয়ম মেনে সিডিউল ক্রয় করলেও সন্ত্রাসীদের কারণে দরপত্র জমা দিতে পারিনি। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা প্রয়োজন।”
অভিযোগকারীদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহিন মন্ডল, আতাউর রশিদ (বাচ্চু), মিজানুর রহমান চৌধুরী, কে.এম নাজমুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী খান লাভলুসহ একাধিক ঠিকাদার রয়েছেন।
এছাড়া পৃথক আরেকটি আবেদনে বর্তমান ইজারাদার লিয়াকত আলী খান (লাভলু) একই অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তিনিও সিডিউল ক্রয় করলেও সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে দরপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ফিরে আসেন। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানান।
লিয়াকত আলী খান বলেন, “আমি বৈধভাবে বাজারের বর্তমান ইজারাদার। নতুন অর্থবছরের জন্যও নিয়ম অনুযায়ী অংশ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সন্ত্রাসীদের কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি—সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে আবার দরপত্র আহ্বান করা হোক।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “যারা দরপত্র জমা দিয়েছেন, তারা নিয়ম মেনেই দিয়েছেন। যারা জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করছেন, তারা নির্ধারিত সময়ে আমাদের অবহিত করেননি।”
তিনি আরও বলেন, “দরপত্র গ্রহণের পর তা মূল্যায়ন কমিটির কাছে পাঠানো হবে। কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, সন্ত্রাসী প্রভাব থাকলে দরপত্র প্রক্রিয়া কখনোই সুষ্ঠু হতে পারে না। এতে করে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত প্রতিযোগিতাও বাধাগ্রস্ত হয়।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে, তাহলে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য ইজারাদার নির্বাচন সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭:১৪ পিএম