আকাশের ওই আলোকবর্তিকা, যাকে ভাবো অবিনাশী,
সময়ের টানে তারও চিবুকে জমে বিষাদের রাশি।
উজ্জ্বল শিখা জ্বেলে যে জানায় অস্তিত্বের দোহাই,
মহাকালের গর্ভে একদিন সেও হয়ে যায় ছাই।
অহংকারের উচ্চাসনে যার নিত্য বসবাস,
আঁধারে বিলীন হওয়াই তার চরম ইতিহাস।
নক্ষত্র ঝরলে আকাশ কি আর রয় না আগের মতো?
শূন্যতা ঠিকই ভরে ওঠে, আড়ালে শুকায় ক্ষত।
আসলে উচ্চতা মানেই পতন আর ধূলিকণার টান,
শেষের আগে কেউই বোঝে না এই ধরণীর বিধান।
যাদের দাপটে কাঁপে মেদিনী, জৌলুস ঝরে গায়,
তারাও তো একদিন ম্লান হয় নিঃসঙ্গ বিদায়।
শিখর ছোঁয়া মানেই তো নয় চিরস্থায়ী কোনো ঘর,
মাটির পৃথিবীতে সবাই আমরা দু’দিনের যাযাবর।
আলোর নেশায় মত্ত যারা ভুলে যায় নিজ ছায়া,
দিনশেষে সবই মিছে খেলা, স্রেফ কুহেলিকা মায়া।
অন্ধকারই শেষ গন্তব্য, নিভে যায় সব প্রাণ,
অস্তিত্বের লড়াই শেষে থাকে শুধু ব্যবধান।
রাজপ্রাসাদ কি কুঁড়েঘর, ওই নক্ষত্র কি ধূলি—
সবাইকে তো থামতে হবে এক সমান পাল্লায় ঝুলি।

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২:১৯ এএম