কীভাবে বুঝবেন আপনার ফ্যাটি লিভার? শুরুতে ধরুন, নাহলে বিপদ!

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৮:৫৩ এএম

ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের। অ্যালকোহলিক ও নন অ্যালকোহলিক। মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান থেকে লিভারে চর্বি জমলে তা অ্যালকোহলিক ফ্যাট। দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি মূলত খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত তেল, ফ্যাট জাতীয় উপাদান বেড়ে গেলে হয়।

কখনও কখনও নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বংশগত কারণেও হতে পারে। সময় মতো সতর্ক না হলে এই ফ্যাটি লিভারের হাত ধরেই হানা দিতে পারে লিভার সিরোসিস। তবে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ফ্যাটি লিভারের কারণে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও।

আপনার ফ্যাটি লিভার আছে কিনা, তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণ, ঝুঁকির দিকে নজর দিতে হবে:
প্রাথমিক সাধারণ লক্ষণসমূহ (যা অনেকেই অবহেলা করেন)

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা (Fatigue): পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের পরেও যদি আপনি দিনের পর দিন কারণ ছাড়াই খুব ক্লান্ত বোধ করেন, তবে এটি লিভারের সমস্যার একটি অন্যতম প্রধান লক্ষণ হতে পারে।

পেটের ডান দিকের উপরের অংশে অস্বস্তি: পেটের যে অংশে লিভার থাকে (পাজরের ডানদিকে নিচে), সেখানে হালকা ব্যথা, ভোঁতা ব্যথা বা ভারি ভাব অনুভব করা।

অরুচি ও ওজন হ্রাস: খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া বা চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমতে থাকা।

রোগের জটিল পর্যায়ে দেখা দেওয়া লক্ষণ (সিরোসিসের দিকে গেলে):

ফ্যাটি লিভার দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে তা লিভার সিরোসিসের (স্থায়ী ক্ষতি) দিকে যেতে পারে। তখন যে মারাত্মক লক্ষণগুলো দেখা দেয়:

জন্ডিস:

চোখ ও গায়ের চামড়া হলুদ হয়ে যাওয়া।

পেট ফুলে যাওয়া (Ascites):

পেটে পানি জমার কারণে পেট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া।

পায়ে ফোলাভাব:

পায়ের পাতা এবং গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যাওয়া।

ত্বকের পরিবর্তন:

হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া (Palmar erythema) এবং ত্বকের ওপর মাকড়সার জালের মতো রক্তনালী ভেসে ওঠা (Spider angiomas)।

সহজেই রক্তপাত: 

সামান্য আঘাতেই রক্তপাত হওয়া বা কালশিটে পড়া।
২০২২ সালে সুইডেনের একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, নন অ্যালকোহল-রিলেটেড ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তদের মধ্যে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ১২.১৮ শতাংশ বেশি।

২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল হেল্‌থ ইন্স্যুরেন্স সার্ভিসের একদল গবেষক এই বিষয়টি নিয়ে আবার গবেষণা করেন। তাঁরা জানান, যাঁরা অ্যালকোহল বা মদ্য পান করেন, তাঁদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের চেয়ে ২.৬০ শতাংশ বেশি। মদ বা অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় খান না, কিন্তু ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে–এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়।

একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই স্থূলত্ব রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকলে লিভারে প্রদাহজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এমনকি, লিভার বিকল হয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধরনের ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিস, হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আবার, অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকলে তা খাদ্যনালি, পিত্তথলি, ফুসফুস, থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সার কিংবা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন