ইফতারের পর কখন চা পান করবেন? জেনে নিন সঠিক সময়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ । ৬:৩৮ এএম

রমজানে ইফতার শেষ হতেই অনেকের মনে একটাই প্রশ্ন থাকে—‘চা হবে না?’ যেন এক কাপ চা ছাড়া ইফতার পূর্ণতা পায় না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যায়, ইফতারের পর চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া ছবি কিংবা স্ট্যাটাস। কারও চাই দুধ-চা, কারও পছন্দ লাল-চা, আবার কেউ কেউ আদা-দারুচিনি-লবঙ্গ দেওয়া মসলা-চা ছাড়া ভাবতেই পারেন না। অনেকের কাছে ইফতারের পর এক কাপ চা মানেই সারাদিনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে নতুন করে সতেজ হয়ে ওঠা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইফতারের কতক্ষণ পর চা খাওয়া ভালো? আদৌ কি সঙ্গে সঙ্গে চা খাওয়া উচিত? নাকি একটু অপেক্ষা করা দরকার? চা কি সত্যিই ক্লান্তি দূর করে, নাকি অজান্তেই ডেকে আনে অ্যাসিডিটি, ঘুমের সমস্যা কিংবা পানিশূন্যতা?

এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা আকতার।

তার মতে, ইফতারের পর চা খাওয়া যাবে, তবে সময়, ধরন ও পরিমাণে সচেতনতা জরুরি। কারণ, সঠিক নিয়ম না মানলে প্রিয় সেই এক কাপ চা-ই রোজার সময় শরীরের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে উঠতে পারে।

সতেজতায় চা

ইফতারের পরও অনেকেই বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পান না। এমন সময় সতেজতার আমেজ আনতে আপনার জন্য চা পান অবশ্যই ইতিবাচক হতে পারে। চায়ের ক্যাফেইন ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে। আর এই চা যদি খাওয়া হয় আদা, তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ প্রভৃতি দিয়ে, তাহলে আপনি দারুণ ফুরফুরে অনুভব করবেন। মসলা চা বানাতে আলসেমি লাগলে সহজে অর্গানিক চা বানিয়ে নিতে পারেন।

পরিপাক ও পুষ্টিগত দিক

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো খাবার খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট পর পানি কিংবা পানীয় খাওয়া উচিত। নইলে খাবার পরিপাকে অসুবিধা হতে পারে। তবে পানীয়টি যদি হয় চা, তাহলে সময়ের ব্যবধানটা আরেকটু বাড়িয়ে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, চায়ের ট্যানিন খাবার থেকে আয়রন শোষণ করতে বাধা দেয়। তাই খাবার খাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর চা খাওয়া ভালো।

ইফতারের পর বেশিভাগ মানুষই দুধ-চা খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু দুধ-চা অনেকের ক্ষেত্রেই অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যার জন্য দায়ী। ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার খেয়ে অনেকে এমনিতেই অ্যাসিডিটিতে ভোগেন। এর ঠিক পর পর দুধ-চা খেলে এ ধরনের সমস্যা বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ইফতারের পর অতিরিক্ত চা খাবেন না। তাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। তাই দেহ পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। রমজান মাসে কেউ কেউ পানিশূন্যতায় ভোগেন। অতিরিক্ত চা-কফি খেলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে।

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রিন্ট করুন