সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। এর মধ্যে সাদাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, আর ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়।
কাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব
ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে যেসব মুসলিম নর-নারী এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি; তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।
সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
চলতি বছর অর্থাৎ ১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ সালে একজন ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কত টাকা থাকলে ফিতরা আদায় করতে হবে, তা জানিয়েছে রাজধানী ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগ।
প্রতিষ্ঠানটির দারুল ইফতা জানায়, ইসলামি শরিয়তের মানদণ্ড অনুযায়ী ৫২.৫ ভরি রূপার মূল্য ধরে এ বছর জাকাত-ফিতরার নেসাব ২,৩০,০০০ টাকা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দারুল ইফতার প্রধান মুফতি মনসূরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নেসাব ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত নেসাব অনুযায়ী, কোনো মুসলিমের কাছে পূর্ণ এক বছর ২,৩০,০০০ টাকা থাকলে তাকে জাকাত আদায় করতে হবে এবং ঈদুল ফিতরের দিন সকালে এই পরিমাণ সম্পদ বা নগদ টাকা থাকলে ফিতরা দিতে হবে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ । ৬:৫০ এএম