আমার ভোরের সূর্য উঠেছিল শিশুর হাসির মতো,
উদ্দাম ছিল দু’টি পা আমার, স্বপ্ন ছিল কত।
শৈশব ধূলোর ঘর বেঁধেছিল মাঠের ঐ প্রান্তে,
জীবনটা যে ফুরিয়ে যাবে, পারিনি তা জানতে।
ভরা যৌবনে ঐশ্বর্য ছিল, ছিল হাতের মুঠোয় বল,
আশপাশে ছিল সুহৃদ-বান্ধব আর লোকলস্কর দল।
ধনে-জনে ভরা ছিল আঙিনা, উৎসব ছিল রাতে,
ভেবেছি সবাই চিরকাল রবে এই আমারই সাথে।
হঠাৎ কখন দুপুর গড়িয়ে নামল বিকেলের ছায়া,
কেটে যেতে লাগল পৃথিবীর সব মোহ-কায়া।
সাঝের বেলা এখন আমি নিভৃত এক কোণে,
পুরানো দিনের স্মৃতিগুলো শুধু গুমরে মরে মনে।
পাখিরা সব কুলায় ফিরেছে, গোধূলির ম্লান আলোয়,
প্রকৃতিও আজ সেজেছে যেন বিষণ্ণতার কালোয়।
শূন্য ভিটেয় হাহাকার বয়, চারিদিক খাঁ খাঁ করে,
শেষবেলায় মানুষ ঠিক একাই পড়ে রয় ঘরে।
প্রকৃতি আর মানুষের জীবন একই সুতোয় গাঁথা,
অস্তগামী রবির মতো নুইয়ে পড়ে আজ মাথা।
আসা আর যাওয়ার মাঝে এই তো পরম সত্য,
রিক্ত হাতেই সাঙ্গ হলো জীবনের এই নৃত্য।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
বরগুনা সরকারি কলেজ

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ । ৮:০৬ এএম