ফাল্গুন মাসটা এদিকে দারুণ। শীত কেটে হাল্কা গরম পড়ে। বেশ সহনীয় আবহাওয়া। সুন্দরবন থাকে বৃষ্টির অপেক্ষায়। সেই বৃষ্টিও কাল ঝরলো বন উপকূ্লে।
গাছগুলো এবার সতেজ হবে। ফুটবে খলিশা, বলা, কালীলতা। আসবে মধু। সেই মধু খেতে আসতে শুরু করেছে মৌমাছিরা। সরিষা, আম-জামের পর এবার সুন্দরবনে আসছেন উনারা কোটি কোটি, ঝাঁকে ঝাঁকে। গাছে গাছে বসেছে মৌচাক।
এদিকে মৌমাছিদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করছেন মৌয়ালরা। বৃষ্টির পর ফুলে মধু আসে। তখনই ঢুকে পড়েন মৌয়ালরা। বন বিভাগের অনুমতি পেতে পেতে মেই এপ্রিল। কিন্তু মৌমাছিরা কি আর সেই সময় মেনে চলে? তাই মৌয়ালরাও চুরি করে মৌচাক ভাঙা শুরু করবেন শিগগিরি।
দুই মাস বন্ধের পর মার্চ এর প্রথম দিন থেকে কাঁকড়া শিকারের অনুমতি মিলেছে। শিকারীরা মহা ধুমধাম করে কাঁকড় ধরতে গেছেন। কিছুদিনের মধ্যে গোলপাতার নৌকাগুলো ঢুকবে বনে। ওদিকে মাছ শিকার, দুবলার চরের শুঁটকির কারবার চলছে। সব মিলিয়ে এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন বনজীবীরা।
পেটের তাগিদে চলে প্রান্তিক বনজীবীদের বাদা বনের জীবন। ঝুঁকির জীবন জেনেও চলে বনের জীবন। এসময় বাঘ কুমিরে নিতে পারে জীবন। অপহরণ করতে পারে বনদস্যুরা। জানা অজানা আরও বিপদ ওদের সহযাত্রী। তাই প্রতিবারই বনে যাওয়ার সময় এক রকম শেষ বিদায় নেন। ফিরে এসে মনে করেন, নতুন জীবন পেলাম।
সুন্দরবনের মানুষেরা ভালো থাকুক। কালো ছায়াগুলো সরে যাক দ্রুততম সময়ের মধ্যে।
লেখক: সাংবাদিক

মহসিন উল হাকিম
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ । ১১:০৩ পিএম