ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের দরগা গট্টি গ্রামে হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা (বীজ) চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক স্কুলশিক্ষক। তিনি গট্টি ইউনিয়নের দরগা গট্টি গ্রামের বাসিন্দা এবং গট্টি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। পাঠদানের পাশাপাশি কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা ও উদ্যোগ থাকলে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নিজস্ব প্রায় দুই বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও সঠিক পরিচর্যা, সময়মতো সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি ভালো ফলন পান। বাজারে পেঁয়াজের বীজের চাহিদা বেশি থাকায় উৎপাদিত দানা বিক্রি করে তিনি উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখবেন-এমনটাই আশা করছেন ওই এলাকার চাষিরা।
এ ব্যাপারে শিক্ষক জীবন কুমার বিশ্বাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “শুধু চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর না করে কৃষিকে আধুনিক পদ্ধতিতে করলে বাড়তি আয় সম্ভব। হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা চাষ তুলনামূলকভাবে লাভজনক। ভবিষ্যতে আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা উৎপাদনের জন্য উপযোগী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “অনেকেই শুধু পেঁয়াজ চাষ করেন, কিন্তু বীজ উৎপাদনে আগ্রহ কম। এই শিক্ষক উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়ায় অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন। আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, এ উপজেলায় মোট ৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের দানা চাষ করছেন চাষিরা। যেটা বিঘা অনুপাতে প্রায় ২০০ বিঘা।
স্থানীয় কৃষকরাও তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজের দানা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানসম্মত বীজ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলে কৃষকরা সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন এবং বাইরের এলাকার ওপর নির্ভরতা কমবে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিকাজে এই সাফল্য প্রমাণ করে—শিক্ষিত যুবসমাজ চাইলে আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। সালথার দরগা গট্টি গ্রামের এই উদ্যোগ এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬ । ১০:৫১ এএম