ফরিদপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় স্বামী মো. জাকির মোল্লাকে (৪৬) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার মঙ্গলকোট এলাকার বাসিন্দা। আর নিহত রেখা বেগম সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় আসামি জাকির মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জেলা কারাগারে পাঠায়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে জাকির মোল্লার সঙ্গে রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের কয়েক বছর ভালোভাবে চললেও ২০১৫ সালের শুরুতে জাকির মোল্লার আচরণ বদলে যায়। সে স্ত্রী রেখা বেগমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং বাবার বাড়ি থেকে সেই টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকে।
স্বামীর নির্যাতন ও চাপের মুখে একপর্যায়ে রেখা বেগম বাবার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে তার পরিবার মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে জমি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করে দেয়। সেই টাকা এনে স্বামীর হাতে তুলে দেন রেখা।
তবে কিছুদিনের মধ্যেই ওই টাকা শেষ হয়ে গেলে আবারও স্ত্রীর কাছে নতুন করে যৌতুক দাবি করতে থাকে জাকির মোল্লা। এবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে সে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জাকির মোল্লা তার স্ত্রী রেখা বেগমকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহত রেখা বেগমের চাচা মো. বাচ্চু খান ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জাকির মোল্লা এবং তার মা-বাবাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিপুল চন্দ্র দে। তদন্ত শেষে তিনি ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাকির মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১১(ক) ধারায় এ রায় প্রদান করেন।
এ বিষয়ে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে একটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে গেছে। আদালতের এই রায় সমাজে যৌতুকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেবে এবং এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬ । ৪:২৭ পিএম