ঋতু পরিবর্তনের সময়, বিশেষ করে বসন্তকালে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখের প্রকোপ বাড়ে। তবে প্রকৃতিতে যেমন রোগ আছে, তেমনি রয়েছে তার সমাধানও। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে ঋতুর যে রোগ, সেই ঋতুর শাক-সবজি ও ফলেই লুকিয়ে থাকে তার প্রতিকার। তাই বাজারি খাবারের বদলে মৌসুমি খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে।
ছেলেবেলায় অনেকের সকাল শুরু হতো নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ খেয়ে। খালি পেটে ৪-৫টি নিমপাতা চিবিয়ে খাওয়ার পর মুখের তেতো কাটাতে খাওয়া হতো কাঁচা হলুদ, গোলমরিচ ও আখের গুড়। এসব উপাদান জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে হাঁচি-কাশি, জ্বর ও পেটের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
নিমপাতায় থাকা নিম্বিন ও নিম্বোলাইডসহ প্রায় ১৩০টি উপাদান, হলুদের কারকিউমিন এবং গোলমরিচের পিপারিন শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়।
কাঁচা নিমপাতা খেতে না পারলে ভাতের সঙ্গে নিম-বেগুনের তরকারি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে একদিকে জীবাণুনাশক গুণ পাওয়া যায়, অন্যদিকে বেগুনের পুষ্টিগুণও শরীরকে সমৃদ্ধ করে। এতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।
কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবার থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক।
এ সময় সজনে ডাঁটা ও ফুল খাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে শরীর প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পায়। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হাঁপানির প্রকোপ কমাতেও সজনে উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তকালে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক, মেথি শাক, মুলা শাক, ধনেপাতা, পেঁয়াজকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, মটরশুঁটি, বিট, গাজর, ব্রোকোলি, ক্যাপসিকাম, টমেটো, নতুন আলু, শিম, বিনস, কুমড়ো ও পটল, এসব সবজি বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে। সেদ্ধ, তরকারি, স্যুপ বা সালাদ হিসেবে এসব খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও ফাইটোকেমিক্যাল পায়। এতে ঋতু পরিবর্তনের সময় অসুখ-বিসুখের ঝুঁকি কমে।
ভাতের সঙ্গে লেবু খাওয়াও উপকারী। ডাল, সালাদ বা ধনেপাতার চাটনির সঙ্গে লেবু খেলে শরীর কিছুটা ভিটামিন সি পায়।
রাতে নয়, দিনে ফল
ফল দিনে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় রাতে ফল খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। দিনের বেলায় ফল খেলে শরীরের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সেই চিনি খরচ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় সুস্থ থাকতে বেশি দাম দিয়ে অসময়ের ফল-সবজি না কিনে মরসুমি শাক-সবজি ও ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ । ৮:০৩ এএম