গ্রীষ্ম এলেই বাংলাদেশের বেশিভাগ ঘরবাড়িতে শুরু হয় তাপের সঙ্গে লড়াই। দুপুরের প্রখর রোদ, গরমে ভারী হয়ে থাকা বাতাস আর ঘরের ভেতর জমে থাকা তাপ অনেক সময় জীবনযাপনকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
অনেকেই এই সমস্যার সমাধান হিসেবে এয়ার কন্ডিশনার বা এসির কথা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবার পক্ষে এসি কেনা বা নিয়মিত চালানো সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ বিলের চাপ, পরিবেশগত প্রভাব এবং যন্ত্রের খরচ—সব মিলিয়ে অনেকেই বিকল্প উপায় খুঁজে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘর ঠান্ডা রাখতে সব সময় এসির প্রয়োজন হয় না। ঘরের নকশা, বাতাস চলাচল, রঙ, আসবাবপত্রের ধরন কিংবা দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস বদলালেই অনেক ক্ষেত্রে ঘরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এমন কিছু সহজ কৌশল আছে, যেগুলো অনুসরণ করলে বড় অঙ্কের খরচ ছাড়াই ঘরকে অনেকটা শীতল রাখা যায়। একই সঙ্গে এসব পদ্ধতি পরিবেশবান্ধবও।
নিচে এমনই ১৫টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো, যেগুলো অনুসরণ করলে গরমের দিনেও ঘরকে তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।
১. জানালা কখন খুলবেন, কখন বন্ধ রাখবেন
ঘরের জন্য প্রাকৃতিক আলো জরুরি হলেও গরমকালে সূর্যের আলো যত বেশি ঢুকবে, ঘর তত গরম হবে। তাই দিনের বেলায় বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তরমুখী জানালা বন্ধ রাখা ভালো।
রান্না করলে ঘরের তাপমাত্রা বাড়ে। তাই গরমে এমন খাবার খাওয়া ভালো যা অল্প সময়েই রান্না হয়।
১২. বৈদ্যুতিক যন্ত্র
মোবাইল চার্জার, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ অনেক যন্ত্র তাপ উৎপন্ন করে।
ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখা ভালো।
১৩. গাছ লাগানো
বাড়ির আশপাশে বড় গাছ থাকলে তা প্রায় ৭০ শতাংশ রোদ আটকে দিতে পারে।
ঘরের ভেতরে মানিপ্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা বা অ্যারিকা পাম রাখা যেতে পারে।
১৪. ডিহিউমিডিফায়ার
ডিহিউমিডিফায়ার ঘরের আর্দ্রতা কমায়। বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি ঘরকে তুলনামূলক আরামদায়ক করে।
১৫. শরীর ঠান্ডা রাখা
ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার খাওয়া, ঠান্ডা পানিতে গোসল এবং সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরা এতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে, কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন ও সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে এসি ছাড়াও ঘরকে অনেকটা শীতল রাখা সম্ভব। এতে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, তেমনি পরিবেশও থাকে নিরাপদ।
সূত্র : বিবিসি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ । ৬:২০ এএম